একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, অন্যদিকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা - ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 22 October 2025 14:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা গায়ে ট্যাটু, পরনে বিকিনি (bikini), গলায় ফুলের মালা। উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে (Rishikesh Uttarakhand) গঙ্গায় স্নান (holy dip in Ganga) করতে নামলেন এক বিদেশি পর্যটক (foreigner)। একদিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, অন্যদিকে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা - ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে (viral video) দেখা যায়, ঋষিকেশের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মণঝুলার কাছে গঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক বিদেশি মহিলা। গলায় ফুলের মালা, বিকিনিপরা অবস্থায় হাত জোড় করে প্রণাম করছেন তিনি। তারপর মালাটি গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে পবিত্র জলে ডুব দেন ও কিছুক্ষণ সাঁতার কাটেন।
প্রসঙ্গত, বিকিনি নামক পোশাকটির দুটি ভাগ, তা সাধারণত সাঁতার কাটা বা সানবাথিং (রোদস্নান)-এর জন্য বিখ্যাত হলেও এখন তা রীতিমতো ফ্যাশন স্টেটমেন্টে পরিণত হয়েছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই ইন্টারনেট ভাগ হয়ে গিয়েছে দুই মেরুর মতামতে। কারও মতে, এই ঘটনায় কোনও অসম্মান নেই, বরং তিনি নিজের মতো করে ভক্তি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, অনেকেই এটিকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং পবিত্র গঙ্গানদীর প্রতি অবমাননা বলে দাবি করেছেন।
‘উদ্দেশ্য তো খারাপ নয়’, বলছেন অনেকে
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বিদেশি পর্যটকের পক্ষেই কথা বলেছেন। একজন লিখেছেন, “মেয়েটার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না, সে নিজের মতো করে শ্রদ্ধা জানিয়ে পবিত্র জলে ডুব দিয়েছে।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “পুরুষমানুষ যখন অন্তর্বাস পরে গঙ্গায় স্নান করতে নামেন তাতে অসম্মান হয় না? কিন্তু কেউ বিকিনি পরে নামলেই সমস্যা?”
অন্য এক ব্যবহারকারী বলেছেন, “ওকে ঘৃণা করো না। হয়তো বিষয়টা সাংস্কৃতিকভাবে ভেবেই দেখেনি।”
‘সংস্কৃতির প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ’, পাল্টা সমালোচনা
তবে বিপরীত মতও প্রবল। একাংশ বলছে, গঙ্গা শুধুই নদী নয়, ভারতের কাছে তিনি দেবী, তাই এমন আচরণ ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “যে নিজের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে সম্মান করে না, সে আবার পশ্চিমি খোলামেলা সংস্কৃতিকে বড় বলে মনে করে।”
আরেকজনের প্রশ্ন, “লোকজন থামাল না কেন? কোনও ভারতীয় মহিলা এমন করলে তো সঙ্গে সঙ্গে মামলা হয়ে যেত, কিন্তু বিদেশি করলে সবাই চুপ।”
মজার ছলে আরেকজন লিখেছেন, “অন্তর্বাস পরে গঙ্গায় নামা কাকুদেরই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে!”
বিশ্ব জুড়ে পর্যটকদের কাছে প্রিয় ঋষিকেশে গঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, দেবী গঙ্গার প্রতীক, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন। বিদেশি পর্যটকরা যখন স্থানীয় সংস্কৃতির থেকে ভিন্ন আচরণ করেন, তখনই বারবার জন্ম নেয় এমন বিতর্ক।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও উস্কে দিয়েছে সেই চিরকালীন প্রশ্ন - আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় স্থানে কোথায় শেষ হয় ব্যক্তিস্বাধীনতা, আর কোথা থেকে শুরু হয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা?