
শেষ আপডেট: 7 December 2023 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের এলবি স্টেডিয়ামে তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রেবন্ত রেড্ডি। শুধু তিনি একা নন, তাঁর সঙ্গে আর ১০ বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করলেন। এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে ছিলেন গোটা গান্ধী পরিবারই।
এদিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ রেবন্ত রেড্ডির শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সূচির কিছু বদল ঘটানো হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে 'ঐতিহাসিক মুহুর্ত'র সাক্ষী থাকে স্টেডিয়াম ছিল কানায় কানায় ভর্তি। ঠিক দুপুর ১টা ২২ মিনিটে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে উঠে তেলেগু ভাষায় যখন নিজের নাম বললেন রেবন্ত, তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত সকলে। হাততালি যেন থামতেই চাইছিল না।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আগেই দিল্লি থেকে উড়ে এসেছিলেন কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীরা। এসেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। মঞ্চে তাঁদের সামনেই প্রথমবার তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন রেড্ডি। তাঁর পরই উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন ভাট্টি বিক্রমার্কা। এরপর একে একে বাকিরা শপথ গ্রহণ করেন।
দেশের ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তেলঙ্গনা বাদে আর চার রাজ্যে প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি কংগ্রেস। হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ে বিজেপির কাছে হেরে যায় হাত শিবির। তবে তেলঙ্গনায় ভোটের ময়দানে চালিয়ে খেলে কংগ্রেস। চন্দ্রশেখর রাও-এর দলকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে তারা। আর এই জয়ের মূল কান্ডারি বলা হচ্ছে রেবন্তকেই।
তেলঙ্গনায় যে ক্ষমতা দখল করতে পারে দশ মাস আগে ভাবতেও পারেনি কংগ্রেস। কিন্তু রেবন্ত রেড্ডিকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করার পর ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই শুরু করে কংগ্রেস। তবে হাত শিবিরে রেবন্ত নবীন! তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল এবিভিপি-র হাত ধরে। পরে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টিতে যোগ দেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত চন্দ্রবাবু নাইডুর দলেই ছিলেন রেড্ডি। কিন্তু সেই দল ছেড়ে যোগ দেন কংগ্রেসে। ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে হেরে যান। তবে কংগ্রেসের হাত ছাড়েননি তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তাঁকে মালকাজগিরি থেকে প্রার্থী করে এবং তিনি জেতেন। ২০২১ সালে এই তেলঙ্গনা রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হয় রেড্ডিকে। হাইকমান্ডের দেওয়া দায়িত্ব পালনে তিনি যে কার্পণ্য করেননি তা ভোটের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট।
তেলঙ্গনায় কংগ্রেস জেতার পরই কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। অনেকেই এগিয়ে রেখেছিলেন রেড্ডিকে। তবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করাতে আপত্তি ছিল দলের মধ্যেই। যদিও শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি সেই আপত্তি। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড রেড্ডিকেই বেছে নেন তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে।