
শেষ আপডেট: 5 December 2023 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের আগে ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেস। হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড়ের কংগ্রেসকে গো-হারান হারায় বিজেপি। মন্দের ভাল তেলঙ্গনা। কে চন্দ্রশেখর রাও সরকারকে সরিয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছে। দক্ষিণের এই রাজ্যে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে চর্চা চলছিল। মঙ্গলবার সেই জল্পনার অবসান ঘটাল কংগ্রেস নেতৃত্ব। রেবন্ত রেড্ডিকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
রেড্ডিকে মুখ্যমন্ত্রী করায় আপত্তি ছিল কংগ্রেসের মধ্যেই। কিন্তু সেই আপত্তি টিকল না। মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্ব বৈঠকে বসে। সেই বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী জানিয়ে দেন, রেবন্ত রেড্ডিই হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৭ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।
৫ রাজ্যের মধ্যে তেলঙ্গনাতে ভাল ফল করেছে কংগ্রেস। আর সেই জয়ের পর থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছেন রেড্ডি। ওই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন তিনি। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই দক্ষিণের এই রাজ্যে লড়াই করেছে হাত শিবির।
তেলঙ্গনায় যে ক্ষমতা দখল করতে পারে দশ মাস আগে ভাবতেও পারেনি কংগ্রেস। কিন্তু রেবন্ত রেড্ডিকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করার পর ঐক্যবদ্ধ ভাবে লড়াই শুরু করে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রায় ভাল সাড়া পাওয়া যায় এই রাজ্যে। তারপর থেকেই যেন একটা বদলের হাওয়া উঠতে থাকে।
কে এই রেবন্ত রেড্ডি?
১৯৬৯ সালে জন্ম রেবন্ত রেড্ডির। কংগ্রেসের মতো দলে রাজনীতির ময়দানে নবাগতই বলা চলে তাঁকে। এবিভিপি-র হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ ঘটে রেড্ডির। পরে চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টিতে যোগ দেন। সেই দলে থাকাকালীন দিল্লির মসনদ থেকে কংগ্রেসকে সরাতে জোর স্লোগান তুলেছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে প্রথম বিধায়ক হন তিনি।
২০১৭ সাল পর্যন্ত চন্দ্রবাবু নাইডুর দলেই ছিলেন রেড্ডি। কিন্তু সেই দল ছেড়ে যোগ দেন কংগ্রেসে। ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে হেরে যান। তবে কংগ্রেসের হাত ছাড়েননি তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে তাঁকে মালকাজগিরি থেকে প্রার্থী করে এবং তিনি জেতেন। ২০২১ সালে এই তেলঙ্গনা রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হয় রেড্ডিকে। হাইকমান্ডের দেওয়া দায়িত্ব পালনে তিনি যে কার্পন্য করেননি তা ভোটের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট।