টিভিকে-র রাজ্য সাধারণ সম্পাদকও একই দিনে একটি বিবৃতি দিয়ে আগেভাগে ভিড় জড়ো হওয়ার ইঙ্গিত দেন। এতে লোকজন আরও আগে চলে আসেন।
.jpg.webp)
টিভিকে প্রধান বিজয়
শেষ আপডেট: 3 December 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারুরে নেতা-অভিনেতা বিজয়ের সভায় পদপিষ্ট (Karur Stampede) হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় টিভিকে দলকেই (Tamilaga Vettri Kazhagam) দায়ী করল তামিলনাড়ু সরকার (Tamil Nadu Govt)। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) তারা জানায়, দলের আয়োজক ও কর্মীদের একের পর এক সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি এতটা গুরুতর করে দিয়েছিল।
সরকারের হলফনামায় বলা হয়েছে, 'বিজয় সকাল ৮.৪০ মিনিটে চেন্নাই থেকে বিমানে তিরুচিলাপল্লি পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি নমাক্কলে একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং পরে কারুরে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে কারুরে পৌঁছন। সরকারের দাবি, 'ইচ্ছাকৃতভাবেই সভাস্থলে দেরিতে গেছিলেন বিজয়, যাতে আরও বেশি ভিড় বাড়ানো যায়। ।'
সভার দিন কারুর জেলা পুলিশ সকাল ১০টা থেকেই নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ভিড় সামলানোর কাজ করছিল। টিভিকে-র (Tamilaga Vettri Kazhagam) অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে ঘোষণা করা হয়, বিজয় দুপুর ১২টা নাগাদ সভাস্থলে যাবেন। অথচ পুলিশকে দেওয়া অনুমতি পত্রে এমন কিছুই উল্লেখ ছিল না। অভিযোগ, এই ভুল ও বিভ্রান্তিকর ঘোষণার ফলে হাজার হাজার সমর্থক সকাল ৯.৩০টা থেকেই ভিড় করতে শুরু করেন।
তারপর টিভিকে-র (TVK) রাজ্য সাধারণ সম্পাদকও একই দিনে একটি বিবৃতি দিয়ে আগেভাগে ভিড় জড়ো হওয়ার ইঙ্গিত দেন। এতে লোকজন আরও আগে চলে আসেন। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। পানীয় জল, প্রাথমিক সুবিধা কিছুই ছিল না। এতে অসুস্থতা, ক্লান্তি ও অস্থিরতা দ্রুত বাড়তে থাকে।
সরকার জানিয়েছে, পুলিশ পুরো সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে ও ধৈর্য দেখিয়েছে। বিজয় মঞ্চে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাত ঘণ্টার দেরিতে তাঁর আসার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় এবং তার পরপরই ঘটে যায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা।
সুপ্রিম কোর্ট গত ১৩ অক্টোবর এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, তদন্ত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাক্তন বিচারপতি অজয় রস্তোগির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছিল, ওই দিন প্রায় ২৭ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যা প্রত্যাশিত সংখ্যার তিনগুণ। এই অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই শেষ পর্যন্ত ৪১টি প্রাণ কেড়ে নেয়।
এই বিপর্যয়ের পর বিজয় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, 'আমি জানি এই ক্ষতি অপূরণীয়। আপনাদের যাঁদের মুখের দিকেই তাকিয়েছি সেই দৃষ্টি আমার মনকে বিদ্ধ করেছে। আমার প্রিয়জনদের যাঁরা আমাকে ভালবাসেন তাঁদের প্রতি আমার হৃদয়ের অতল থেকে সহানুভূতি জানাই। আমার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আপনাদের ভালবাসার লোককে হারানোর যন্ত্রণা আমার সবথেকে বড় বেদনা। আমি তাই আমার সেই ব্যথার কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার মন ও চোখে আপনাদের দুঃখে জল এসে যাচ্ছে।'