Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
সরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র

কেজরিওয়াল, আপের ভবিষ্যৎ যে যে কারণে অনিশ্চিত

নির্বাচনে হার-জিৎ থাকেই। দিল্লি এবার আম আদমি পার্টির হাতছাড়া হতে পারে, এমন আভাস ছিল। যদিও বিজেপির এমন অভাবনীয় বিজয় সম্ভবত পদ্ম শিবিরের নেতারাই কল্পনা করেননি।

কেজরিওয়াল, আপের ভবিষ্যৎ যে যে কারণে অনিশ্চিত

প্রতীকী ছবি

শেষ আপডেট: 9 February 2025 12:57

অমল সরকার

নির্বাচনে হার-জিৎ থাকেই। দিল্লি এবার আম আদমি পার্টির হাতছাড়া হতে পারে, এমন আভাস ছিল। যদিও বিজেপির এমন অভাবনীয় বিজয় সম্ভবত পদ্ম শিবিরের নেতারাই কল্পনা করেননি।

যদিও প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বলা যাবে না, অবরিন্দ কেজরিওয়ালের পার্টি খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে। বিজেপি ও আপের ভোটের ফারাক তিন-সাড়ে তিন শতাংশ মাত্র।

কিন্তু তারপরও কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে অনিশ্চিত বলা চলে। আপ সুপ্রিমোর জন্য বড় ধাক্কা তাঁর নিজের হেরে যাওয়া। দুর্নীতির অভিযোগে জেল ফেরত নেতার ভোটের বাক্সের এমন অভিঘাত সুদূরপ্রসারী হওয়া অসম্ভব নয়। কেজরিওয়ালের হাত থেকে সযত্নে লালিত দুর্নীতি বিরোধী ভাবমূর্তিটি খসে পড়েছে। হেরে যাওয়ার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হওয়ার সুযোগও হাতছাড়া। রাজ্যসভায় যাওয়ার পথও কঠিন। পাঞ্জাব ও দিল্লিতে রাজ্যসভার পরবর্তী ভোট হওয়ার কথা যথাক্রমে ২০২৮ ও ২০৩০ সালে।

যে দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে বিজেপি দিল্লিতে আপের দেওয়াল ভেঙে দিতে সক্ষম হল সেই অস্ত্র এবার কেজরিওয়ালের দলের বিরুদ্ধে আরও জোরালোভাবে প্রয়োগ করবে পদ্ম শিবির। শনিবারের ভাষণে তেমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লি বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনেই সিএজি (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) রিপোর্ট পেশ করা হবে। তারপর লুটেরাদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু হবে। সিএজি ভারত সরকারের প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী বোঝাতে চেয়েছেন, শুধু বিজেপির অভিযোগ নয়, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সিএজি’ও আপ সরকারের অনাচার তুলে ধরতে চলেছে।

কম আর বেশি, দুর্নীতির অভিযোগ থেকে কোনও শাসক দলই মুক্ত নয়। কিন্তু আপের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে কোনও শাসক দলের তুলনায় অনেক জোরালো এবং গুরুতর। মদ কেলেঙ্কারির মামলায় ইডি শুধু কেজরিওয়াল-সহ কতিপয় নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়নি, তারা আম আদমি পার্টিকেও অভিযুক্ত করেছে, যা এদেশে নতুন। আপ ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে এ যাবত দুর্নীতির অভিযোগে চার্জশিট পেশ হয়নি। চার্জশিটে বলা হয়েছে, মদের লাইসেন্স বিলিয়ে ঘুষের টাকায় দল চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল পার্টির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে। এজন্য মদ বিক্রি বাড়াতে ঢালাও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। ইডি আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আপের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়।

আসন সংখ্যায় ধরাশায়ী হওয়ায় আম আদমি পার্টিকে অটুট রাখাও কেজরিওয়ালের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপি চেষ্টা করবে বিধায়ক ভাঙিয়ে আপকে চূর্ণবিচুর্ণ করতে। আপ সুপ্রিমোর আসন থেকে কেজিরিওয়ালকে সরানো হবে পদ্মশিবিরের আরও এক লক্ষ্য।

আসলে আপের বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াই শুধু ভোটের বাক্সে নয়, আম আদমি পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে নিকেশ করাও তাদের লক্ষ্য। দিল্লিতে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলেও তাই করত। মূল ধারার কোনও রাজনৈতিক দলেরই আপের মতো পার্টিকে বাড়তে দেওয়ার কথা নয়। কারণ, আপের রাজনীতিটাই হল ধাপ্পাবাজিকে আশ্রয় করে বাজিমাৎ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বলে নিজেরা ভ্রষ্টাচারের কাদায় ডুবে ছিল। এই ধরনের পার্টিই আসলে এক ধরনের ওয়েব বা হাওয়া, যা কোনওভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা ছিল না।

সেই হাওয়াও গোড়ায় তৈরি করে দিয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ। আরএসএসের পয়লা লক্ষ্য ছিল কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করা। দশ-পনেরো বছর আগে বিজেপিকে গিয়ে সেটা সম্ভব ছিল না বুঝেছিলেন সঙ্ঘ কর্তারা। এবার সেই বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার পিছনে সঙ্ঘের বড় ভূমিকা ছিল। আরএসএস প্রচার শুরু করেছিল মদ কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই।

কংগ্রেসের দুর্ভাগ্য হল, তাদের উৎখাত করে ক্ষমতায় আসা আপকে হাত শিবির কোনও দিনই মোক্ষম জবাব দিতে পারল না। কংগ্রেস নেতারা পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করছেন, কীভাবে হাত শিবিরের ভোট আপের বিজয়রথ আটকে দিয়েছে। সত্যটি হল, বেশিরভাগ আসনে কংগ্রেসের কাছাকাছি ভোট অনেক নির্দল প্রার্থীও পেয়েছেন।

আপকে নিয়ে বিজেপির শিরপীড়ার আরও একটি হল, কেজরিওয়ালের পার্টি একটি আধা হিন্দুত্ববাদী দল। তারা দিল্লির দাঙ্গার সময় মুখ বুজে ছিল। কেজরিওয়াল সরকারি টাকায় অযোধ্যায় রাম মন্দির দেখানোর ব্যবস্থা করেন। আরও নানা পদক্ষেপ এবং সিদ্ধান্তেও স্পষ্ট ছিল মুখে বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক বিভাজনের কথা না বললেও কেজরিওয়ালের পার্টি আধা হিন্দুত্ববাদী। রাজধানীর মুসলিম সমাজ তা জানে। কংগ্রেস ময়দানে না থাকায় বিজেপিকে ঠেকাতে এই নির্বাচনেও তারা আম আদমি পার্টির পাশে ছিল। অন্যদিকে, বিজেপি হিন্দুত্বের কপিরাইট নিয়ে বিচলিত। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহেরা চান না আর কোনও দল হিন্দুত্বে ভাগ বসাক।

দিল্লিতে আপ এবং কংগ্রেস কেউ কারও হাত ধরতে চায়নি। ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি দিল্লির কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেন যদিও সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কেজরিওয়াকে গালমন্দ করেছিলেন জোট না করায়। সেই সঙ্গে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, দিল্লিতে কংগ্রেস হবে ডিসাইডিং ফ্যাক্টর। বাস্তবে তাই হয়েছে। দলের হাত এবারও শূন্য। কিন্তু বহু আসনে আপের পরাজয়ে স্পষ্ট ঝাড়ুতে হাত (কংগ্রেসের প্রতীক) পড়লে কেজরিওয়ালকে এমন অসম্মানজনক হারের মুখোমুখি হতে হত না। কেজলিওয়াল তথা আপের বিপর্যয় রাজধানীতে কংগ্রেসের পালে হাওয়া দিতে পারে। সরকারি সুবিধা এবং বিজেপিকে মোকাবিলার অঙ্কে যে ১৫ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার গত বারো-তেরো বছর আপের সঙ্গে ছিলেন তারা এবার কংগ্রেসের হাত ধরতে পারেন।


```