বয়স ও চেহারা অনুযায়ী মেয়েদের ‘দাম’ ঠিক করার অভিযোগে বিহারের একাধিক গার্লস হস্টেল ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 January 2026 17:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাটনার (Patna) একাধিক গার্লস হস্টেল (Girls Hostel) ঘিরে সামনে আসা ভয়ঙ্কর অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছাড়ল বিহারে (Bihar)। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, নাবালিকা ছাত্রীদের (Minor Girls) নিয়ে নাকি প্রকাশ্যেই ‘দর কষাকষি’ চলত—একেবারে বাণিজ্যিক লেনদেনের ভাষায়। অভিযোগ, এক ১৭ বছরের ছাত্রীর জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দর হাঁকা হয়েছিল। তদন্তে পাওয়া বয়ানে এক এজেন্টের কথাই নাকি ছিল, “আগে মেয়েটাকে পাঠানো হবে, পরে টাকা দিলেই চলবে।” এই বক্তব্যই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।
সূত্রের দাবি, পাটনার বিভিন্ন গার্লস হস্টেলে থাকা ছাত্রীদের বয়স ও শারীরিক গড়নের ভিত্তিতে ভাগ করে দাম নির্ধারণ করা হত। একাধিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছে, কথোপকথনে ছাত্রীরা কার্যত ‘পণ্য’ হয়ে উঠেছিল। এজেন্টদের মুখে শোনা গিয়েছে, “যেমন বয়স, তেমন ফিগার, তেমনই চার্জ।” এই সব বক্তব্য এখন প্রমাণ হিসেবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে পাটনায় (Patna) এক নিট (NEET) পরীক্ষার্থী তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তে যৌন নির্যাতনের (Sexual Assault) ইঙ্গিত মিলেছে, যা গোটা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রে হস্টেলের সঙ্গে যুক্ত কিছু ‘সাপ্লায়ার’ (Suppliers) মধ্যস্থতার কাজ করত। সরকারি কাজ বা পরিচিত পরিচয়ের আড়ালে ছাত্রীদের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করত তারা। দিনের বেলায় মেয়েটিকে পাঠানো হবে, নির্দিষ্ট সময়ে আবার হস্টেলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দেওয়া হত যাতে সন্দেহ না হয়। টাকা নেওয়া হত মেয়েটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছনোর পর। এই পরিকল্পিত ব্যবস্থাই দীর্ঘদিন ধরে চক্রটিকে আড়ালে চালাতে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় হস্টেল ওয়ার্ডেনদের (Wardens) ভূমিকা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে। প্রাথমিক তদন্তে দাবি, সামান্য টাকার বিনিময়ে কিছু ওয়ার্ডেনকে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছিল। ফলে এজেন্ট ও সাপ্লায়ারদের হস্টেলে ঢোকা-বেরোনোয় কার্যত কোনও বাধা ছিল না। নজরদারির অভাব, নিয়মিত পরিদর্শন না হওয়া—এই সবকিছুর সুযোগ নিয়েই নাকি যৌন শোষণের (Sex Exploitation) জাল বিস্তার লাভ করে।
এই সব তথ্য সামনে আসতেই ফের উঠছে বিহারের আগের একাধিক শেল্টার হোম (Shelter Home) কেলেঙ্কারির কথা। তখন যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছিল কি না—সেই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে। তদন্তাধীন হস্টেলগুলিতে সিসিটিভি (CCTV), ভিজিটর রেজিস্টার (Visitor Register), মহিলা নিরাপত্তারক্ষী (Female Security Staff) না থাকা বা অকেজো থাকার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ (Police) সূত্র জানাচ্ছে, উদ্ধৃত ‘রেট’ সংক্রান্ত ডিজিটাল চ্যাট, অডিও রেকর্ডিং ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নির্দিষ্ট সূত্রে এখনও কেউ গ্রেফতার না হলেও, ছাত্র সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা অবিলম্বে অভিযুক্ত এজেন্ট, সাপ্লায়ার এবং হস্টেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।