.webp)
শেষ আপডেট: 22 January 2024 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে অবশেষে রবিবার রাতে গুজরাতের গোধরা জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করল বিলসিক বানো ধর্ষণ কাণ্ডের ১১ অভিযুক্ত।
কারও ছেলের বিয়ে, কারোর জমিতে ফসল পড়ে। এমনই একাধিক 'অজুহাতে' জেলে ফিরতে সময় চেয়েছিলেন বিলকিস বানোর সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন। বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণের জন্য সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। শুক্রবার সেই আবেদনই খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, বিলকিস বানো ধর্ষণকাণ্ডের ১১ জন সাজাপ্রাপ্তকে আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে জেলে ফিরতে হবে।
গোধরার ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইন্সপেক্টর এনএল দেশাই সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের আগে রবিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অভিযুক্ত ১১ জন গুজরাতের গোধরা জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। এরা হল বাকাভাই ভোহানিয়া, বিপিন চন্দ্র জোশী, কেশরভই ভোহানিয়া, গোবিন্দ নাই, যশবন্ত নাই, মীতেশ ভাট, প্রদীপ মোরধিয়া, রাধেশ্যাম শাহ, রাজুভাই সোনি, রমেশ চন্দনা ও শৈলেশ ভাট।
গত বছর স্বাধীনতা দিবসে বিলকিসের অভিযুক্তদের সময়ের আগেই মুক্তি দেয় গুজরাত সরকার। এরপরই বিলকিসের তরফে ফের মামলা দায়ের হয়। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিলকিসের ধর্ষকদের জেলে ফিরতে নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন বিলকিস বানো।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে গোধরা দাঙ্গায় বিলকিস বানোকে গণধর্ষণ ও তাঁর পরিবারকে হত্যার অপরাধে ১১ জন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু ২০২২ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন গুজরাত সরকার তাদের মেয়াদের আগেই মুক্তি দেওয়ায় সারা দেশ জুড়ে নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিলকিস বানোর তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। শীর্ষ আদালত গুজরাত সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে সাজাপ্রাপ্তদের ফের হাজতবাসের নির্দেশ দেয়।