
বাবা রামদেব। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 1 May 2025 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদালতে ফের ভর্ৎসিত পতঞ্জলির যোগগুরু বাবা রামদেব। দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি হামদর্দের রুহ আফজা সিরাপ প্রসঙ্গে রামদেবের বিতর্কিত 'শরবত জেহাদ' নিয়ে আবার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। আদালত এর আগের ভিডিও প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল রামদেবকে। ফের একই ধরনের ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট বলে, রামদেবকে বাগে আনা কারও সম্ভব নয়। উনি নিজের জগতেই বাস করেন। একইসঙ্গে আগের নির্দেশ ভঙ্গ করার জন্য আদালত অবমাননার নোটিস দেওয়া হয়েছে রামদেবকে।
এর প্রত্যুত্তরে রামদেবের আইনজীবী আদালতে জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে বিতর্কিত ভিডিও তুলে নেবেন। উল্লেখ্য, হামদর্দ ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন (ইন্ডিয়া) রামদেব এবং পতঞ্জলি ফুডস লিমিটেডের বিরুদ্ধে একটি আর্জি জমা দিয়েছিলেন আদালতে। যাতে পতঞ্জলির গুলাব শরবতের প্রচারে আপত্তিজনক মন্তব্য করেছিলেন রামদেব, এমনটাই অভিযোগ ছিল কোম্পানির।
এর আগের দিনের শুনানিতেও বাবা রামদেবের 'শরবত জেহাদ' মন্তব্যে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন যোগগুরু তথা পতঞ্জলির প্রতিষ্ঠাতা। 'হামদর্দ' কোম্পানির নরম পানীয় 'রুহ আফজা' শরবতকে 'শরবত জেহাদ'এর অঙ্গ বলে মন্তব্য করেছিলেন বাবা রামদেব। আর তা নিয়ে দিল্লি হাইকোর্ট বাবা রামদেবের তুমুল ভর্ৎসনা করে। আদালত বলেছে, এ ধরনের মন্তব্য উচিত নয়, সমর্থনযোগ্য নয়। রামদেবের কথায় অন্তরাত্মা পর্যন্ত নড়ে উঠেছে। পাঁচদিনের মধ্যে রামদেবের ওই মন্তব্যের সমস্ত বিজ্ঞাপন ও ভিডিও তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। কিন্তু, তাতেও সন্তুষ্ট না হয়ে দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, পুরো বিষয়টিতে একটি হলফনামা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, রামদেব বাবার এই মন্তব্যকে ঘিরে চলতি মাসের গোড়ার দিকে বিতর্ক ঘনিয়ে ওঠে। পতঞ্জলি গ্রীষ্মের গোড়াতেই একটি রোজ সিরাপ বাজারে চালু করে। এই অনুষ্ঠানে রামদেব বলেন, দেশে একটি কোম্পানি আছে যারা শরবত তৈরি করে। আপনারা সেই শরবত ব্যবহারও করেন। কিন্তু, এই শরবত বেচার টাকা যায় মাদ্রাসা ও মসজিদ তৈরি করতে। যদিও রামদেব এ প্রসঙ্গে হামদর্দ কোম্পানির রুহ আফজার নাম করেননি। কিন্তু, তাঁর মন্তব্যের লক্ষ্য যে সেদিকেই ছিল, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি।
রামদেব ভিডিওতে বলেছিলেন, আপনারা যদি ওই শরবত খান, তাহলে মাদ্রাসা ও মসজিদ তৈরি হবে দেশে। কিন্তু, যদি আপনারা পতঞ্জলির এই শরবত খান, তাহলে গুরুকুল নির্মাণ হবে। আচার্য কুলম গড়ে উঠবে, পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয় আরও বড় হবে এবং ভারতীয় শিক্ষা পর্ষদ বেড়ে উঠবে। রামদেবের এই মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে হামদর্দ কোম্পানি আদালতে মামলা করে।
বাবা রামদেবের 'শরবত জেহাদ' আক্রমণের জবাবে হামদর্দ কোম্পানি সুবিচার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিল। আদালত এদিন বলেছে, এই ধরনের কথা আদালতের বিবেকবুদ্ধিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের কথাকে কোনওমতেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করা যায় না। হামদর্দ কোম্পানির পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহতগি বলেন, রামদেবের কথা ঘৃণা ভাষণের পর্যায়ে পড়ে।
রোহতগির যুক্তি ছিল, রামদেবের কথায় সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে এবং সমাজে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন ডেকে আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, কেবলমাত্র প্রতিযোগিতাবশত শত্রুতার ফল নয় এই মন্তব্য। এতে রুহ আফজার যে খ্যাতি আছে তা নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে এমনটাও নয়। এর থেকেও বড় বিপদ হচ্ছে, এই মন্তব্য সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করতে পারে। আদালত রামদেবের আইনজীবীকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। তাঁর কাছ থেকে পতঞ্জলির যোগগুরুর বক্তব্য জানতে চায় আদালত।