উত্তরপ্রদেশ সরকার রবিবার জানিয়েছে, আসন্ন দীপোৎসব ২০২৫-এই হবে এই জাদুঘরটির উদ্বোধন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 09:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যা এবার আরও এক সাংস্কৃতিক আকর্ষণের সাক্ষী হতে চলেছে। রামমন্দিরের প্রাঙ্গণেই গড়ে উঠছে রামায়ণ-ভিত্তিক মোমের জাদুঘর। জীবন্ত রূপে ধরা পড়বে রামায়ণের নানা চরিত্র ও কাহিনি।
উত্তরপ্রদেশ সরকার রবিবার জানিয়েছে, আসন্ন দীপোৎসব ২০২৫-এই হবে এই জাদুঘরটির উদ্বোধন।
প্রায় ১০ হাজার বর্গফুটজুড়ে তৈরি হচ্ছে জাদুঘরটি। মন্দিরের প্রদক্ষিণপথের ধারে তৈরি হওয়া এই জাদুঘরে ভক্ত ও পর্যটকরা উপভোগ করবেন এক ভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই প্রকল্পে। মোমের মূর্তি ছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে রামায়ণের নানা দৃশ্য সাজানো হবে এখানে।
কী কী দেখা যাবে মোমের জাদুঘরে?
জাদুঘরে থাকবে প্রায় ৫০টি রামায়ণ চরিত্রের মূর্তি। তার মধ্যে থাকছে শ্রীরাম, সীতা, লক্ষ্মণ, হনুমান, সুগ্রীব, জটায়ু। প্রতিটি মূর্তিকেই যতটা সম্ভব জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। পোশাক, অভিব্যক্তি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের খুঁটিনাটি বিষয়েও বিশেষ যত্ন নেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধু মূর্তি নয়, রাম-রাবণের যুদ্ধ, সীতাহরণ, হনুমানের লঙ্কা যাত্রা থেকে শুরু করে রামসেতু নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ও সাজানো হবে মোম ও আধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে। শব্দ-আলো প্রক্ষেপণ ও ইন্টার্যাক্টিভ ডিসপ্লের মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করা হবে অভিজ্ঞতা। মূর্তিগুলি তৈরি করছে মহারাষ্ট্রের এক সংস্থা, সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন কেরলের শিল্পীরা।
পিপিপি মডেলে তৈরি হচ্ছে জাদুঘর
অযোধ্যাকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। পৌর কমিশনার জয়েন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, দ্রুত গতিতে চলছে কাজ। প্রকল্পের সময়মতো শেষ হওয়া নিশ্চিত করতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। অমানিগঞ্জের ভূলোভুলাইয়া প্রকল্পের মতোই, এটি-ও তৈরি হচ্ছে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে।
অঞ্চলীয় কমিশনার রাজেশ কুমার বলেছেন, 'এই মোমের জাদুঘর অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভক্ত ও পর্যটকরা রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে এক নিমগ্ন অভিজ্ঞতা লাভ করবেন। পাশাপাশি চলছে সড়ক প্রশস্তকরণ, সরযূ ঘাটের সৌন্দর্যায়ন, পরিকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা প্রকল্প। লক্ষ্য—অযোধ্যাকে বিশ্বমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।'
প্রতি বছর দীপোৎসবে অযোধ্যায় লক্ষ লক্ষ প্রদীপ প্রজ্বলনের সাক্ষী হয় বিশ্ব। সেই ঐতিহ্যই এবার নতুন মাত্রা পেতে চলেছে এই বিশেষ জাদুঘরের হাত ধরে।