তদন্তে উঠে এসেছে, এক মহিলা পাকিস্তানি অপারেটিভ ‘ইশা শর্মা’ নামে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া আইডি তৈরি করে মঙ্গৎ সিংকে হানি ট্র্যাপে ফাঁসায়।

ধৃত মঙ্গৎ সিং
শেষ আপডেট: 11 October 2025 13:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের আলোয়ার (Rajasthan Alwar) জেলার এক বাসিন্দাকে পাকিস্তানের আইএসআই (Pakistan ISI)-এর হয়ে গুপ্তচবৃত্তির (Spying) অভিযোগে গ্রেফতার করল রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স (Rajasthan Intelligence)। ধৃতের নাম মঙ্গৎ সিং। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের Official Secrets Act অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘ নজরদারি ও তদন্তের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আটক করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, এক মহিলা পাকিস্তানি অপারেটিভ ‘ইশা শর্মা’ নামে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া আইডি তৈরি করে মঙ্গৎ সিংকে হানি ট্র্যাপে (honey trap) ফাঁসায়। প্রথমে আবেগের খেলা, তারপর আর্থিক প্রলোভন - এই দুইয়ের জালে ফেঁসে গিয়ে সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য শেয়ার করতে শুরু করেন মঙ্গৎ।
রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, প্রায় দুই বছর ধরে পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন মঙ্গৎ সিং। আলোয়ার সেনানিবাস এবং অবস্থানগত নানা গোপন তথ্য তিনি পাকিস্তানে পাঠাতেন বলে অভিযোগ। রাজধানী দিল্লির সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দিক থেকে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
অপারেশন সিঁদুরের আওতায় রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স রাজ্যের বিভিন্ন সেনা স্থাপনার আশপাশে সন্দেহজনক গতিবিধি খতিয়ে দেখছিল। সেই সময় আলোয়ার সেনানিবাস এলাকার নজরদারির সময় মঙ্গৎ সিংয়ের চলাফেরা সন্দেহজনক বলে মনে হয়। এরপরই তাঁর উপর গোপনে নজর রাখা শুরু হয়।
“ধৃত ব্যক্তি গ্রেফতারের আগে পর্যন্তও পাক হ্যান্ডলারদের কাছে সামরিক তথ্য পাঠাতেন,” জানিয়েছেন রাজস্থান ইন্টেলিজেন্সের ডিআইজি রাজেশ মীল। তাঁর কথায়, “মঙ্গৎ সিং নিয়মিতভাবে পাকিস্তানের দু'টি নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং বিপুল অঙ্কের টাকা পেতেন। এখন সেই আর্থিক লেনদেনের উৎস ও চ্যানেল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি পাকিস্তানের দুটি মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন— একটির মাধ্যমে ওই মহিলা হ্যান্ডলার যোগাযোগ করতেন, অন্যটি সরাসরি আইএসআই-এর হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। গোপন সামরিক তথ্যের বিনিময়ে নিয়মিত অর্থ লেনদেনও হত।
তাঁর মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল যোগাযোগের বিশদ প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে পুলিশ ১০ অক্টোবর তাঁকে গ্রেফতার করে। জয়পুরের বিশেষ থানায় Official Secrets Act, 1923 অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়। রাজস্থান সিআইডি ইন্টেলিজেন্সের হেফাজতে রয়েছেন মঙ্গৎ সিং।
বর্তমানে জয়পুরের সেন্ট্রাল ইন্টেরোগেশন সেন্টারে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, প্রাথমিক জেরায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে, যা গোয়েন্দাদের কাছে নতুন দিক খুলে দিচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শুধু সৈন্যদের চলাফেরাই নয়, সেনানিবাসের বিন্যাস, কৌশলগত পরিকল্পনা ও অবকাঠামো সম্পর্কেও তথ্য পাচার করেছিলেন মঙ্গৎ সিং। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, তথ্য ফাঁসের ব্যাপ্তি কতদূর পর্যন্ত গিয়েছে এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না।
এক সিনিয়র গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, ''মঙ্গৎ সিংয়ের কার্যকলাপ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি ছিল। এখন আমরা পুরো সময়সীমা, তথ্যের পরিমাণ ও সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের সংযোগ যাচাই করছি।”
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এখন তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছেন। এনসিআর অঞ্চলে বা দেশের অন্য কোথাও একই ধরনের গুপ্তচর নেটওয়ার্ক সক্রিয় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অর্থ লেনদেনের রাস্তা খুঁজে দেখা হচ্ছে— আইএসআই কীভাবে অর্থ পাঠাত, এবং মঙ্গৎ সিংয়ের কোনও সহযোগী ছিল কি না।
বর্তমানে মঙ্গৎ সিং পুলিশ হেফাজতে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স।