ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 April 2025 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বঘোষিত ধর্মগুরু (Self Styled Godman) আসারাম বাপুর (Asaram Bapu) অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের (Interim Bail) মেয়াদ একলাফে দুই মাস বাড়িয়ে দেওয়া হল। সোমবার রাজস্থান হাইকোর্ট (Rajasthan High Court) সাফ জানিয়ে দেয়, চিকিৎসার কারণে (Medical Ground) ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসারামের জামিনের মেয়াদ ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।
বিচারপতি দীনেশ মেহতা এবং বিচারপতি বিনীত কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের শর্ত মেনেই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর আবেদন মঞ্জুর করেন। নির্দেশ দেওয়া হয় জেলের বাইরে থাকাকালীন কোনওভাবেই ধর্ম প্রচার করতে পারবেন না তিনি। কিন্তু গত ২ এপ্রিল রাজস্থান হাইকোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীন সরকার পক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, দেশের শীর্ষ আদালতের সেই নিয়মকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ধর্মপ্রচার করেছেন আসারাম। পাশাপাশি তিনি ভক্তদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং উপদেশও দিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও সরকারপক্ষের আইনজীবীর সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আসারাম বাপুর আইনজীবী।
সোমবার আসারামের আইনজীবী নিশান্ত বোরা বলেন, "আদালত হলফনামা গ্রহণ করেছে এবং ১ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেছে।"
যোধপুর এবং সুরাট, দু’টি পৃথক ধর্ষণ মামলায় জেলবন্দি আসারাম বাপু। দু’টি মামলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। জানুয়ারি মাসে দুটি মামলাতেই তিন মাসের অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন তিনি। জামিনে থাকাকালীনই গত সপ্তাহেই সুরাট ধর্ষণকাণ্ডে তাঁর আরও তিন মাসের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে গুজরাত হাইকোর্ট।
এদিকে জামিনের মেয়াদ শেষ হতেই ৩১ মার্চ সোমবার দুপুর দেড়টা নাগাদ যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে আত্মসমর্পণ করেন আসারাম বাপু। ১০ ঘন্টা পর তাঁকে আচমকাই নিয়ে যাওয়া হয় জেলের হাসপাতালে। কিন্তু কী কারণে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট করেনি জেল কর্তৃপক্ষ। এরপরই রাজস্থান হাইকোর্টে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করে তা জরুরী ভিত্তিতে শোনার জন্য আবেদন জানান আসারামের আইনজীবী।
২০১৩ সালে স্বঘোষিত ধর্মগুরু আসারাম বাপুর বিরুদ্ধে নিজেরই আশ্রমের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয় রাজস্থানের জয়পুর আদালত। এরপর ২০২২ সালে প্রথমবার রাজস্থান হাইকোর্টে জামিনের আর্জি জানান তিনি। এরপর উচ্চ আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সে বছরই সুরাটের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আসারামের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরে তার জামিনের আবেদন খারিজ করে শীর্ষ আদালত। এরপর চলতি বছরের শুরুতে দুই মামলাতেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান তিনি।