তদন্ত চলাকালীন পুলিশ দেখে, গিরীশ খুনের দিন শোভা তাঁর কলেজের জুনিয়র অরুণ বর্মার সঙ্গে ৭৩ বার ফোনে কথা বলেছেন ও অনেক মেসেজও করেছেন।
.jpg.webp)
রঘুবংশীর খুনে ফিরল ‘রিং রোড হত্যা' ছায়া!
শেষ আপডেট: 11 June 2025 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্দোরের নবদম্পতির 'অন্তর্ধান' রহস্যে এসেছে নয়া মোড়! রাজা রঘুবংশীর (Raja Raghubangshi Murder Case) খুনের দায় মূল অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী সোনম রঘুবংশী। বিয়ের আগের প্রেমের জেরেই খুন হতে হয়েছে যুবককে। তদন্তে এই নৃশংস তথ্য উঠে এসেছে। আর এই ঘটনাই মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৩ সালের বেঙ্গালুরুর 'রিং রোড হত্যাকাণ্ড'র (Bengaluru Ring Road Case) কথা। যে ঘটনার কথা মনে পড়লে আজও হাড় হিম করে দেয় অনেকেরই।
২০০৩ সালে ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বি ভি গিরীশের সঙ্গে বাগদান হয়েছিল বেঙ্গালুরুর শোভা শঙ্করনারায়ণ নামের এক ২১ বছরের আইনের পড়ুয়ার। শান্ত স্বভাবের গিরীশ মাসে এক লক্ষ টাকা উপার্জন করতেন। অন্যদিকে, শোভাও ছিলেন শহরের প্রভাবশালী আইনজীবীর মেয়ে।
বাগদানের মাত্র তিন দিনের মাথায় নৃশংসভাবে খুন হন গিরীশ। তদন্ত শুরু হতেই আসল অপরাধীকে ধরে ফেলে পুলিশ। জানা যায়, হবু স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল শোভা নিজেই।
কীভাবে জাল পেতেছিলেন শোভা?
ঘটনার রাতে গিরীশের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন শোভা। ফেরার পথে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই আবদার করেন যে উড়োজাহাজ দেখতে চান। হবু স্ত্রীর আবদার রাখতেই গিরীশ যখন গাড়ি পার্ক করতে যান সেইসমসয় একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ঘিরে ফেলেন। যুবককে বেধরক মারধর করা হয়। শোভা সেইসময় সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন গিরীশ। হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। পরের দিনই মৃত্যু হয় গিরীশের।
মৃতের পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তবে প্রথম কিছুদিন কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি। গিরীশের কোনও শত্রু ছিল না, পারিবারিক বিবাদের কোনও সূত্রও পাওয়া যায়নি। সকলেই যখন একপ্রকার প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেইসময় পুলিশ আরও একবার বাগদানের ভিডিওট খুঁটিনাটি দেখতে শুরু করে।
বাগদানের দিনে শোভার মনমরা, অনিচ্ছুক আব-ভাব তদন্তকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখান থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ দেখে, গিরীশ খুনের দিন শোভা তাঁর কলেজের জুনিয়র অরুণ বর্মার সঙ্গে ৭৩ বার ফোনে কথা বলেছেন ও অনেক মেসেজও করেছেন। এদিকে জেরায় অরুণ জানিয়েছিলেন, তিনি শহরের বাইরে ছিলেন কিন্তু মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে সেইদিন ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিলেন অরুণ।
তদন্তের স্বার্থে শোভা ও অরুণকে জেরা করা হলে শেষপর্যন্ত চাপের মুখে গিরীশকে খুনের কথা স্বীকার করেন দু'জনেই। জানা যায়, শোভা অরুণকে ভালবাসতেন, কিন্তু তাঁর বাবা সম্পর্ক মেনে নেননি। জোর করেই গিরীশের সঙ্গে বিয়ে দিচ্ছিলেন। পরিকল্পনা করেই খুনি ভাড়া করা হয়েছিল। চোখের সামনে গিরীশকে মার খেতে দেখেন শোভা। সন্দেহ এড়াতেই সাহায্যের 'নাটক' করেছিলেন তিনি।
এই মামলাই ছিল দেশের প্রথম দিকের ডিজিটাল ফরেনসিক ভিত্তিক মামলাগুলোর একটি, যেখানে মোবাইলের লোকেশন ও কল রেকর্ড আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়। অভিযুক্ত যুগল সহ দুই ভাড়াটে খুনিকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শোভাকে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট থেকে শোভা জামিন পান।
সময়ের চাকায় কেটে গিয়েছে দুই দশক, কিন্তু অপরাধের চরিত্রে ফের দেখা দিল সেই চেনা ছায়া। এবার ঘটনাস্থল মেঘালয়। গতমাসে ইন্দোরের সদ্যবিবাহিত দম্পতি রাজা ও সোনম রঘুবংশী হানিমুনে গিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই নিখোঁজ হন। উদ্বিগ্ন পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানায়।
পুলিশ তল্লাশি শুরু করে। চলতি মাসের শুরুতেই এক জলপ্রপাতের গিরিখাতে রাজার (Raja Raghubangshi) পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তারপরও বেশ কিছুদিন নিখোঁজ ছিলেন সোনম। অবশেষে চলতি সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন স্ত্রী সোনম। তবে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা আগেই সোনমের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ করছিলেন।
অভিযোগ, সোনম (Sonam Raghubangshi) ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বামীকে খুন করিয়েছেন। এই ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে আসে রাজ কুশওয়াহ নামের এক যুবকের নাম, যার সঙ্গে সোনমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে সূত্রের দাবি। রাজ কুশওহাকেও গ্রেফতার করা হয়। আরও কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ এখন সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। প্রেমঘটিত সম্পর্ক নাকি সম্পত্তিগত বা ব্যক্তিগত শত্রুতা- খুনের পেছনের প্রকৃত কারণ কী, তা জানার চেষ্টা চলছে।