দীপক কুমার জানান, ঘটনার পর থেকে তাঁর ভাড়া করা জিমে সদস্যসংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন অনুশীলন করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ জনে। ফলে আর্থিক চাপে পড়েছেন তিনি।

'মহম্মদ' দীপকের সঙ্গে রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 23 February 2026 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সোমবার কোটদ্বারের জিম প্রশিক্ষক 'মহম্মদ দীপকের' (Mohammad Deepak) সঙ্গে দেখা করলেন। গত মাসে উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারে এক দোকানদারকে রক্ষা করতে গিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন দীপক। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর জীবিকা চরম ধাক্কা খেয়েছে বলে দাবি।
সাক্ষাতের পর দীপক জানান, গান্ধী নিজে তাঁকে ডেকে পাঠান এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন। ভয় পেও না, তুমি কোনও ভুল করোনি - এই আশ্বাসই দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি কোটদ্বার গিয়ে তাঁর জিমে সদস্যপদ (Mohammad Deepak Gym Member) নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলে দাবি দীপকের।
ঐক্যের বার্তা দিয়ে রাহুল বলেন, “প্রত্যেক মানুষ সমান। এটাই ভারতীয়তা, এটাই ভালবাসার দোকান।” তাঁর কথায়, সাহস ও সম্প্রীতির এই আগুন দেশের প্রতিটি তরুণের মনে জ্বলতে হবে।
জীবিকায় ধস
দীপক কুমার জানান, ঘটনার পর থেকে তাঁর ভাড়া করা জিমে সদস্যসংখ্যা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন অনুশীলন করতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১২ থেকে ১৫ জনে। ফলে আর্থিক চাপে পড়েছেন তিনি।
কীভাবে শুরু বিতর্ক
২৬ জানুয়ারি কোটদ্বারের একটি দোকানের নাম বদলানোর দাবি ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, কয়েকজন যুবক দোকান মালিককে নাম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেন। তিনি রাজি না হওয়ায় বচসা চরমে ওঠে। সেই সংখ্যালঘু দোকানদারের পাশে দাঁড়ান দীপক।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পৌরি গড়ওয়ালের এসএসপি সর্বেশ পনওয়ার জানান, ৩১ জানুয়ারি কয়েকজন বহিরাগত দীপকের বাড়ির সামনে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে। শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
দীপকের বক্তব্য
দীপকের দাবি, প্রজাতন্ত্র দিবসে বন্ধুদের সঙ্গে এক পরিচিতের দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে দোকানের নাম নিয়ে কিছু যুবক অশোভন আচরণ করেন। বাধা দিতে গেলে তাঁকে বলা হয়, দোকানের ‘বাবা’ শব্দটি বদলাতে হবে। দোকান মালিক নাম বদলাতে অস্বীকার করায় তর্ক সাম্প্রদায়িক রূপ নেয় বলে অভিযোগ।
দীপকের দাবি, অভিযুক্তরা বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত এবং দোকান মালিক মুসলিম। তাঁর কথায়, “আমার নাম মহম্মদ দীপক - এতে আপনাদের কী?” অন্য পক্ষ থেকেই ঝামেলা শুরু হলেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।