এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় উত্তরপ্রদেশ সরকার (Uttar Pradesh Govt) নড়েচড়ে বসেছে। নয়ডা অথরিটির সিইওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।

শেষ আপডেট: 22 January 2026 20:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নয়ডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর (Noida techie death) পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠছে, শহরগুলোর পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক জবাবদিহির কী অবস্থা? ঠিক এই প্রেক্ষিতেই কড়া সমালোচনা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, দেশে যে 'লোভের সংস্কৃতি' তৈরি হয়েছে এবং মানুষের জীবনের প্রতি যে উদাসীনতা বাড়ছে, এই মৃত্যুই তার পরিণাম।
গত ১৬ জানুয়ারি রাতে গুরগাঁওয়ের অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন ২৭ বছরের যুবরাজ মেহতা (Yuvraj Mehta Death)। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় মোড় নিতে গিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা মেরে কাছের জলভরা গভীর গর্তে পড়ে যায় তাঁর গাড়ি। প্রায় দু’ঘণ্টা তিনি সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করেন, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। ৯০ মিনিট ধরে চিৎকার করেছেন্ম সাহায্য চেয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত সেই গর্তেই মৃত্যু হয় তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের।
রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi on Noida Techie Death) এক্স-এ পোস্ট করে লেখেন, 'ভারতের শহরগুলো ভেঙে পড়ছে (Infrastructure failure in India), কারণ টাকার বা প্রযুক্তির অভাব নয়, জবাবদিহির অভাবই সব সমস্যার মূল। কেউ জবাবদিহি করার প্রয়োজন মনে করে না (No Accountability in India)।' তিনি আরও লেখেন, 'রাস্তায় মৃত্যু, সেতুতে মৃত্যু, জলে মৃত্যু, আগুনে মৃত্যু, দূষণে মৃত্যু- কিন্তু আসলে মৃত্যুর কারণ প্রশাসনের উদাসীনতা।”
রাহুল গান্ধী একটি ভিডিওও শেয়ার করেন, যেখানে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সময়মতো উদ্ধার হলে যুবরাজকে বাঁচানো যেত। ভিডিওতে যুবরাজের বাবাকে বলতে শোনা যায়, ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়নি। কেউ কেউ বরং ভিডিও করতেই ব্যস্ত ছিলেন।
আরেকটি ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশে এমন এক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে লোভ ও জীবনের প্রতি অসম্মান বাড়ছে। আমরা যে বাতাসে শ্বাস নিই, যে জল পান করি, চারপাশের ভাঙা অবকাঠামো- সবই সেই লোভের ফল। যুবরাজ মেহতার মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং এই সংস্কৃতির সরাসরি পরিণতি।”
এদিকে ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় উত্তরপ্রদেশ সরকার (Uttar Pradesh Govt) নড়েচড়ে বসেছে। নয়ডা অথরিটির সিইওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে দুর্ঘটনার সমস্ত দিক তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, জল ও কাদায় দম আটকে যাওয়ায় পরে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে যুবরাজের। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই জায়গায় জল জমে থাকত, কোনও ব্যারিকেড বা সাইন বোর্ড লাগানো হয়নি। বহুবার অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। এই ঘটনার পর প্রশাসনিক গাফিলতি, মানুষের উদাসীনতা এবং শহুরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে দেশজুড়ে।