গত দুই দিনে ইন্ডিগোর ৯৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। বিভিন্ন বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, লাগেজ না পাওয়া, খাবার ও তথ্যের অভাব - সব মিলিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় রাহুল গান্ধীর মন্তব্য বিষয়টিকে 'রাজনৈতিক' করে তুলল।

রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 5 December 2025 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইন্ডিগোর (Indigo) ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেই ইস্যুতে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতির দিকেই আঙুল তুললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Congress Leader Rahul Gandhi)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার পরিচালিত ‘মনোপলি মডেল’ বা একচেটিয়া নীতির (Monopoly Model) ফলেই বিমান যাত্রায় আজ এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।
গত দুই দিনে ইন্ডিগোর ৯৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। বিভিন্ন বিমানবন্দরে (Airport Chaos) ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, লাগেজ না পাওয়া, খাবার ও তথ্যের অভাব - সব মিলিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। এই অবস্থায় রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) মন্তব্য বিষয়টিকে 'রাজনৈতিক' করে তুলল।
সোশ্যাল মাধ্যমে রাহুল লিখেছেন - ইন্ডিগো সংকটই প্রমাণ করছে যে, সরকারের 'মনোপলি' নীতি (Monopoly Model) দেশের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্তহীন দেরি, হঠাৎ বাতিল, আর সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। তিনি আরও দাবি করেন, বিমান পরিষেবা হোক বা অন্য কোনও ক্ষেত্র - ভারতকে উন্নতির পথে এগোতে হলে ‘ন্যায্য প্রতিযোগিতা’ ফিরিয়ে আনতেই হবে। একচেটিয়া আধিপত্য অর্থনীতিকে দুর্বল করে, আর তার বোঝা সহ্য করতে হয় আমজনতাকে।
IndiGo fiasco is the cost of this Govt’s monopoly model.
Once again, it’s ordinary Indians who pay the price - in delays, cancellations and helplessness.
India deserves fair competition in every sector, not match-fixing monopolies. https://t.co/sRoigepFgv— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) December 5, 2025
ইতিমধ্যে দেশের একাধিক বিমানবন্দরের ছবি ধরা পড়েছে ইন্ডিগো বিপর্যয়ের। কোথাও রাগে ফেটে পড়ছেন যাত্রীরা, কোথাও হাজার হাজার লাগেজ ব্যাগ (Luggage Bags) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে, কোথাও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার–জল ছাড়াই (Food and Water) অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। কেউ বলছেন 'মানসিক নির্যাতন', কেউ বলছেন 'সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা'। আর অধিকাংশেরই অভিযোগ, ইন্ডিগোর (Indigo) কাছ থেকে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না।
ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সময়ের ডেডলাইন (Time Bound) বজায় রাখাই তাদের পরিচয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই হার নেমে আসে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে, যেখানে মঙ্গলবারের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী দু’তিন দিন আরও ফ্লাইট বাতিলের সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে সংস্থা।
বৃহস্পতিবার একদিনেই ৫৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) হয়েছে - ২০ বছরের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। সংস্থার মতে, ক্রু রোস্টার (Crew Roaster) সমস্যা, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নতুন ডিউটি-নর্মস (New Duty Norms) মিলিয়ে অপারেশন গোটা দেশে বিপর্যস্ত।