১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করে ২৮টি ডেলিভারি দিয়ে মাত্র ৭৬২ টাকা রোজগারের কথা জানানো সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়।

রাঘব চাড্ডা ও সেই ডেলিভারি রাইডার
শেষ আপডেট: 27 December 2025 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাইরাল ভিডিওয় গিগ কর্মীদের স্বল্প আয়ের কথা তুলে ধরে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিলেন এক ব্লিঙ্কিট ডেলিভারি রাইডার (Blinkit Delivery Rider)। সেই রাইডারকেই এ বার নিজের বাড়িতে দুপুরের খাবারে আমন্ত্রণ জানালেন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)।
উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বাসিন্দা থাপলিয়ালজি নামের ওই ডেলিভারি পার্টনার (Delivery Partner) সম্প্রতি একটি ভিডিওয় দিনের পর দিন পরিশ্রম করেও কত কম আয় হয়, তার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন। ১৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করে ২৮টি ডেলিভারি দিয়ে মাত্র ৭৬২ টাকা রোজগারের কথা জানানো সেই ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে সংসদেও গিগ অর্থনীতি ও ডেলিভারি কর্মীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ তোলেন রাঘব চাড্ডা (AAP MP)।
এর পরেই সাংসদের আমন্ত্রণে তাঁর বাড়িতে যান থাপলিয়ালজি। সেই সাক্ষাতের মুহূর্ত ইনস্টাগ্রামে ভাগ করে নিয়ে তিনি লেখেন, রাঘব চাড্ডাকে তিনি খুব কাছের মানুষ হিসেবেই পেয়েছেন। থাপলিয়ালজি লিখেছেন, “ডেলিভারি রাইডারদের কাজ, পরিশ্রম আর সমস্যাগুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা হয়েছে। সবচেয়ে ভাল লেগেছে, উনি কখনও মনে করাননি যে তিনি একজন সাংসদ। সাধারণ মানুষের মতো বসে কথা বলেছেন, একসঙ্গে খেয়েছেন, আর মন দিয়ে শুনেছেন আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা।”
খাবারের টেবিলেই ডেলিভারি কর্মীদের দৈনন্দিন চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অনিশ্চিত শিফট, অ্যাপের অ্যালগরিদমে বাঁধা টার্গেট, আয় নিয়ে অনিশ্চয়তা, অভিযোগ জানানোর মতো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা— সব মিলিয়ে যে লড়াইটা প্রতিদিন চালাতে হয়, তা সাংসদের সামনে রাখেন ওই রাইডার।
ইনস্টাগ্রামের পোস্টে থাপলিয়ালজি আরও লেখেন, “একজন ডেলিভারি রাইডার হিসেবে এটা শুধু একটা সাক্ষাৎই নয়, একটা বড় দায়িত্বও ছিল। আমাদের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য ধন্যবাদ রাঘব চাড্ডা জি।”
উল্লেখ্য, ওই ভাইরাল ভিডিওর পর থেকেই গিগ অর্থনীতির বাস্তব চেহারা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। কেউ ক্রেতাদের বেশি টিপ দেওয়ার আহ্বান জানান, কেউ আবার গোটা ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার দিকে আঙুল তোলেন। সেই আবহেই সংসদে রাঘব চাড্ডা কম মজুরি, দীর্ঘ কাজের সময়, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যূনতম মজুরির অভাব নিয়ে সরব হন।
এক্সে ভিডিও শেয়ার করে তিনি লেখেন, অ্যাপ আর অ্যালগরিদমের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ‘ব্যবস্থাগত শোষণ’ বন্ধ করা জরুরি। চাড্ডার কথায়, ডিজিটাল অর্থনীতি যত বাড়বে, ততই সেই ব্যবস্থাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, যুক্তিসঙ্গত কাজের সময় এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।