পিক-আপ ভ্যানে করে রাতের অন্ধকারে সামগ্রী সরানো হলেও, সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

রাবড়ি দেবী
শেষ আপডেট: 26 December 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু’দশক ধরে বিহারের (Bihar) রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা ছিল ১০ সার্কুলার রোড। এ বার নীরবে সেই অধ্যায়ের ইতি টানতে শুরু করলেন আরজেডি নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী (Rabri Devi)। গভীর রাতে ওই বাংলো থেকে আসবাবপত্র সরানোর দৃশ্য দেখা গিয়েছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে— লালু পরিবার (Lalu Yadav Family) ধীরে ধীরে ওই বাসস্থান ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে (Lalu Prasad Yadav)।
পিক-আপ ভ্যানে করে রাতের অন্ধকারে সামগ্রী সরানো হলেও, সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, বিহার সরকারের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন দফতর ইতিমধ্যেই রাবড়ি দেবীকে ৩৯ হার্ডিং রোডে নতুন সরকারি বাসভবন বরাদ্দ করেছে। নতুন ঠিকানা চূড়ান্ত হওয়ার পরেই ১০ সার্কুলার রোড খালি করা তাঁর পক্ষে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
২০০৫ সালে ক্ষমতা হারানোর পরে, মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১ অনে মার্গ ছেড়ে রাবড়ি দেবীকে ১০ সার্কুলার রোড বরাদ্দ করা হয়েছিল। তার পর থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে সেই বাংলোই হয়ে উঠেছিল লালু পরিবারের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু— কার্যত আরজেডির অঘোষিত সদর দফতর।
২০১৫ সালে মহাগঠবন্ধন সরকার গঠনের পরে, তেজস্বী যাদব উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৫ দেশরত্ন মার্গে ওঠেন। সেই বাংলোর সংস্কার ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। পরে ২০১৭ সালে নীতীশ কুমার বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধলে তেজস্বীকে সেই বাসভবন ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পাটনা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়— প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের সরকারি বাংলো, গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে। সেই রায়ের জেরেই রাবড়ি দেবীও ১০ সার্কুলার রোড ধরে রাখতে পারেন কেবলমাত্র বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেত্রী থাকার সুবাদে।
এ বার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে বিজেপির প্রভাব বাড়ায়, আবাসন সংক্রান্ত নিয়ম কড়াভাবে কার্যকর করার পথে হেঁটেছে সরকার। বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে রাবড়ি দেবীর জন্য নতুন বাসভবন বরাদ্দ হওয়ায়, ১০ সার্কুলার রোডে থাকার আর কোনও আইনগত ভিত্তি রইল না।
আইনি পথও কার্যত বন্ধ। ২০১৯ সালের হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ওই বাংলো ধরে রাখার অধিকার নেই তাঁর। রাজনীতির এক অদ্ভুত পরিহাস, ২০১৭ সালে তেজস্বী যাদব যে মামলার সূত্রপাত করেছিলেন, সেই রায়ই আজ তাঁর মায়ের সামনে শেষ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।