পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে শুধু প্রকাশ একা নয়, আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজস্থান ও পাঞ্জাবের কয়েকজনের নাম পুলিশ ইতিমধ্যেই নজরে রেখেছে।
.jpg.webp)
ধৃত পাঞ্জাবের যুবক
শেষ আপডেট: 2 December 2025 16:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর (ISI) কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠানোর অভিযোগে ধরা পড়লেন এক যুবক। রাজস্থান পুলিশ (Rajasthan Police) জানিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম প্রকাশ সিং ওরফে বাদল। পাঞ্জাবের (Punjab) ফিরোজপুরের বাসিন্দা ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে সেনার গতিবিধিতে নজর রাখছিলেন এবং বিভিন্ন তথ্য পাকিস্তানে পাঠাতেন বলে অভিযোগ।
সোমবার রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগর অঞ্চল থেকে রাজস্থান পুলিশের সিআইডি শাখা (Rajsthan CID Team) তাঁকে আটক করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেনা শিবিরের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় প্রকাশকে। তল্লাশি করে পুলিশের হাতে আসে তাঁর মোবাইল ফোন, যেখানে পাকিস্তানের একাধিক নম্বর এবং চ্যাটের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই চ্যাটে সেনার গতিবিধি, সামরিক যানবাহনের ভিডিও ও ছবি পাঠানোর তথ্যও মিলেছে।
রাজস্থানের সিআইডির আইজি জানিয়েছেন, প্রকাশ নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আইএসআই-এর হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও তিনি রাজস্থান, গুজরাত ও পাঞ্জাব সীমান্তে সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাকিস্তানে পাঠিয়েছেন। শুধু সেনার গোপন কার্যকলাপই নয়, সীমান্ত এলাকার রাস্তা, সেতু, চেকপোস্ট-সহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তিনি শেয়ার করতেন।
গত ২৭ নভেম্বর শ্রী গঙ্গানগরের সাধুওয়ালি মিলিটারি জোনে তাঁর আচরণ দেখে সন্দেহ হয় নিরাপত্তা বাহিনীর। তাঁকে জেরা করেই একাধিক চ্যাট, ছবি ও ভিডিওর সূত্রে উঠে আসে পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ। পরে তাঁকে জয়পুরে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ জেরা করা হয়। এরপর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে গ্রেফতার করে রাজস্থান পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে শুধু প্রকাশ একা নয়, আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজস্থান ও পাঞ্জাবের কয়েকজনের নাম পুলিশ ইতিমধ্যেই নজরে রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে বারবার পাকিস্তানের হয়ে গোপনে তথ্য পাচারের অভিযোগে (Pakistan Spy) একাধিক গ্রেফতারি করেছে রাজস্থান পুলিশ। হরিয়ানা, পাঞ্জাব ও দিল্লিতেও আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগে বহুজনকে ধরা হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই গুরুগ্রামের এক আইনজীবীকে পাক গোয়েন্দাদের তথ্য দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তার আগের দিন দিল্লি পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ তিনজনকে পাক-যোগ থাকার অভিযোগে আটক করে।
বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই ধারাবাহিক গ্রেফতারি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সীমান্তকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের গুপ্তচর চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে, আর তাই তদন্তে আরও জোর দিচ্ছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।