ওই কিশোর বন্ধুদের নিয়ে দেড় ঘণ্টায় ৪৮ হাজার টাকার মদ খেয়েছিল। এরপর গাড়ি নিয়ে বেরোয় সে। ওই সময়ে গাড়ি চালানোর আইনগত বয়সসীমা থেকে চার মাস কম ছিল তার বয়স।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 15 July 2025 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুণেতে (Pune) দুই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করা যাবে না বলে জানাল জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড (JJB)। সে এখন ১৮ পেরোলেও, দুর্ঘটনার সময় বয়স ছিল ১৭ বছর — এই যুক্তিতেই সিদ্ধান্ত বোর্ডের।
গত বছর মে মাসে পুণের কোরেগাঁও পার্ক এলাকায় মাঝরাতে একটি পোর্শে গাড়ি বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা মারে একটি বাইকে (Pune Porsche Crash)। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মধ্যপ্রদেশের দুই তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অনীশ আওধিয়া (২৪) ও অশ্বিনী কোশ্তা (২৪)-র। গাড়িটি চালাচ্ছিল এক ১৭ বছরের কিশোর, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ছেলে (Businessman Son)।
ঘটনার পর জানা যায়, পরীক্ষার ফলাফল উদযাপনের নামে ওই কিশোর বন্ধুদের নিয়ে দেড় ঘণ্টায় ৪৮ হাজার টাকার মদ খেয়েছিল। এরপর গাড়ি নিয়ে বেরোয় সে। ওই সময়ে গাড়ি চালানোর আইনগত বয়সসীমা থেকে চার মাস কম ছিল তার বয়স। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে মদ খাওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ হলেও সেই নিয়মও ভাঙা হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পরে অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। কিশোরের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা লুকোতে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বার্গার খাওয়ানো হয়। এমনকী পুলিশ উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিষয়টি জানায়নি।
চাঞ্চল্য আরও বাড়ে যখন জানা যায়, রক্ত পরীক্ষার জন্য নেওয়া নমুনা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। কিশোরের পরিবর্তে তার মায়ের রক্ত দেওয়া হয় পরীক্ষায়। পরে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করা হলেও জামিনে ছাড়া হয়।
শুরুতে জুভেনাইল বোর্ড ১৫ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে জামিন দিয়ে দেয়। শর্ত ছিল ৩০০ শব্দের প্রবন্ধ লিখতে হবে। দেশজুড়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। পরে কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও বম্বে হাইকোর্ট সেই নির্দেশ বাতিল করে।
যদিও পুণে পুলিশ গত বছরই আবেদন জানিয়েছিল, এই অপরাধ 'অত্যন্ত জঘন্য' হওয়ায় অভিযুক্তকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিচার করার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে জুভেনাইল বোর্ড সে দাবি খারিজ করেছে।
অনীশ আওধিয়ার বাবা ওম আওধিয়া বলেন, "ছেলেকে তো আর ফেরত পাব না। তবে ন্যায়বিচার হলে সমাজে একটা বার্তা যাবে, অর্থ আর প্রভাবশালী পরিচয় থাকলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।"
এই মামলায় বর্তমানে অভিযুক্ত কিশোরের বাবা, দুই চিকিৎসক, হাসপাতালের এক কর্মী সহ দু’জন জেলে রয়েছেন। ওই কিশোর অবশ্য পরিবারের সঙ্গেই আছে।