এই মামলায় শুধু সৌরভ ভরদ্বাজ নন, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনও তদন্তের আওতায় রয়েছেন।

সৌরভ ভরদ্বাজ
শেষ আপডেট: 26 August 2025 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতাল নির্মাণে (Hospital) হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির (Hospital Scam) অভিযোগে শুক্রবার সকাল থেকে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি (ED)। নজরে এসেছে আম আদমি পার্টির (AAP) নেতৃত্ব। এ দিন দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজের (Sourav Bharadwaj ED Raid) বাড়িতেও হানা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মোট ১৩টি জায়গায় চলছে একযোগে তল্লাশি।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই তথাকথিত হাসপাতাল নির্মাণ কেলেঙ্কারির অঙ্ক প্রায় ৫,৫৯০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে দিল্লি সরকার ২৪টি নতুন হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছ’মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর পেরিয়েও নির্মাণের অর্ধেকও সম্পূর্ণ হয়নি।
সূত্রের খবর, এতদিনে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা খরচ হলেও মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। লোকনায়ক জয়প্রকাশ (LNJP) হাসপাতালের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৮ কোটি টাকা থেকে ১,১৩৫ কোটি টাকা— অথচ কাজের তেমন অগ্রগতি নেই।
অভিযোগ আরও গুরুতর। অনুমোদন ছাড়াই একাধিক জায়গায় নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইডি। পাশাপাশি, হাসপাতাল ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (HIMS) ২০১৬ সাল থেকে ঝুলে রয়েছে। অভিযোগ, ইচ্ছে করেই এই প্রকল্পকে বিলম্বিত করা হয়েছে।
এই মামলায় শুধু সৌরভ ভরদ্বাজ নন, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ নেতা সত্যেন্দ্র জৈনও তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আম আদমি পার্টি। দলের শীর্ষ নেতা মণীশ সিসোদিয়া বলেন, “যখন ঘটনাটি ঘটেছে, তখন সৌরভ ভরদ্বাজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন না। গোটা মামলাটাই ভুয়ো। সত্যেন্দ্র জৈনের ক্ষেত্রেও যেমন মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল, এটাও তার পুনরাবৃত্তি।” ইডি-র এই তল্লাশি ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা।
২০২৪ সালের ২২ অগস্ট, দিল্লি বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতা বিজেন্দ্র গুপ্ত এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম এবং সন্দেহজনক দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগে প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ এবং সত্যেন্দ্র জৈনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
দু'জনের বিরুদ্ধেই প্রকল্পের জন্ম নির্দিষ্ট হওয়া বাজেটে গরমিল করার চেষ্টা করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং বেসরকারি ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগও উঠেছে।