
শেষ আপডেট: 28 December 2023 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা সনিয়া এবং দাদা রাহুলের বিরুদ্ধে আগেই তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রাক্তন দুই কংগ্রেস সভাপতিকে কয়েক দফা জেরাও করেছেন তদন্তকারীরা। এবার জমি কেনাবেচায় বেআইনি লেনদেনের মামলায় চার্জশিটে নাম উঠল সনিয়া কন্যা প্রিয়ঙ্কারও। ফলে গোটা গান্ধী পরিবারই এখন ইডির কাঠগড়ায়।
প্রিয়ঙ্কার স্বামী রবার্ট ভদ্রার বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরেই ইডি তদন্ত চালাচ্ছে। হরিয়ানায় জমি কেনা নিয়ে বেআইনি উপায়ে অর্থ লেনদেন এবং এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে রবার্টের বিরুদ্ধে নভেম্বর মাসে অতিরিক্তি চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। সেই মামলাতেই ইডি প্রিয়ঙ্কার নামও জুড়েছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, হরিয়ানায় প্রিয়ঙ্কার নামেও চার একর জমি কেনা হয়েছিল। সেই কেনাবেচাতেও বেআইনিভাবে অর্থ লেনদেন হয়েছে।
প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে ইডির অভিযোগ কতটা গুরুতর তা ইডির প্রেস রিলিজ থেকে স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, অভিযোগ ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, এর রাজনৈতিক অভিঘাত গান্ধী পরিবারের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে যা কংগ্রেসের বিপদ বাড়িয়ে তুলবে।
ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের একদা মুখপত্র ন্যাশনাল হেরাল্ডের সম্পত্তি নিয়ে বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে সনিয়া ও রাহুলকে দফায় দফায় জেরা করেছে ইডি। গত মাসে ন্যাশনাল হেরাল্ডের সাড়ে সাতশো কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাটি।
জমির মামলায় রবার্টকেও একাধিকবার তলব করে ইডি। স্বামী, মা ও দাদাকে এতদিন প্রিয়ঙ্কাই গাড়ি চালিয়ে ইডি অফিসে দিয়ে এসেছেন। এবার চার্জশিটে নাম থাকায় যে কোনও দিন তাঁকেও তলব করতে পারে তদন্তকারী সংস্থাটি।
স্বভাবতই চিন্তা বাড়ল হাত শিবিরের। সদ্যই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সাংগঠনিক পরিবর্তনে প্রিয়ঙ্কাকে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। দলীয় সূত্রে খবর, দলের এই সাধারণ সম্পাদককে লোকসভা ভোটের প্রচারে বেশি করে ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে। দলের একটি অংশ চায় প্রিয়ঙ্কাকে প্রচারে প্রধানমন্ত্রীকে ধাওয়া করার কাজে ব্যবহার করা হোক। মোদীর অভিযোগের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে নিশানা করবেন কংগ্রেস নেত্রী। আর একটি অংশ চায় সনিয়া কন্যা বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামুন।
শেষ পর্যন্ত যে ভূমিকাতেই কংগ্রেসের এই নেত্রীকে দল ব্যবহার করুক না কেন, বিজেপি প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির কালি ছেটানোর সুযোগ পেয়ে গেল বলে মনে করছে কংগ্রেসের অনেকেই।