
গ্রেফতার হওয়া প্রিন্সিপাল।
শেষ আপডেট: 24 September 2024 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় ৬ বছরের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গলা টিপে খুন করে স্কুল চত্বরে পুঁতে দিয়েছেন প্রিন্সিপাল। এমনই অভিযোগ উঠেছে বিজেপি শাসিত গুজরাতের দাহুদ জেলার ৫৫ বছর বয়সি ওই স্কুল প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে। ৬ বছরের স্কুল পড়ুয়াকে খুনের অভিযোগে প্রথমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেখান থেকে তদন্তে এগিয়ে জানা যায়, স্কুল চত্বরেই একরত্তি শিশুটির দেহ পুঁতে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে মিলেছে স্কুল ব্যাগ ও জুতো। প্রিন্সিপাল গোবিন্দ নাট, যিনি মেয়েটিকে স্কুল যাওয়ার ছেড়ে দেবেন বলেছিলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর জেরায় প্রিন্সিপাল স্বীকার করেন এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও মায়ের অভিযোগ, ছোট্ট শিশুটিকে প্রিন্সিপাল ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু সে বাধা দেওয়ায় লোক জানাজানির ভয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন গোবিন্দ নাট। তারপর শ্রেণিকক্ষের কাছে তার ব্যাগ ও জুতো এবং স্কুল চত্বরে তার দেহ পুঁতে দেন।
এই ঘটনায় এলাকায় যথেষ্ট আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে ১০টি টিম তৈরি করেছে। মেয়েটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রিন্সিপালের সঙ্গেই তাঁর মেয়ে স্কুলে বেরিয়েছিল। প্রিন্সিপাল পুলিশকে সাফাই দিতে বলেন, তিনি মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে অন্য একটি কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর কথায় পুলিশের মন গলেনি।
প্রিন্সিপালের ফোন লোকেশন দেখে জানা যায়, ওইদিন তিনি স্কুলে দেরিতে এসেছিলেন। জেরার চাপের মুখে অপরাধ কবুল করেন প্রিন্সিপাল। পুলিশি জেরা ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি মেয়েটিকে বাড়ি থেকে সকাল ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ নিয়ে যান। মেয়েটির মা প্রিন্সিপালের গাড়িতে তাকে তুলে দেন। কিন্তু সে স্কুলে পৌঁছয়নি। প্রিন্সিপাল তার যৌন হেনস্তার চেষ্টা করলে মেয়েটি চিৎকার শুরু করে। তখন তাকে চুপ করাতে প্রিন্সিপাল তার গলা টিপে ধরেন।
স্কুলে পৌঁছে প্রিন্সিপাল মেয়েটিকে গাড়িতে রেখে দরজা লক করে চলে যান। বিকেল ৫টা নাগাদ স্কুলের পিছনে মেয়েটির দেহ পুঁতে দেন এবং তার স্কুলব্যাগ ও জুতো ক্লাসের বাইরে পুঁতে দিয়ে রাখেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে পকসো এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী কুবের ডিন্ডোর বলেন, এটা সমাজের পক্ষে লজ্জাজনক ঘটনা। আমরা ঘটনাটির উপর নজর রাখছি। আমরা দোষীর কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, আর জি কর কাণ্ড এবং মহারাষ্ট্রে বদলাপুরের ঘটনার পরেও সমাজে পাশবিক মানসিকতার যে কিছুমাত্র পরিবর্তন হয়নি এই ঘটনা তার একটি জ্বলন্ত প্রমাণ। তামিলনাড়ুতেও এক নার্সারি মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।