বেঙ্গালুরুর পরাপ্পনা অগ্রহরা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে যাবজ্জীবন অতিথি হয়ে এলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার নাতি, তথা কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো প্রজ্জ্বল। এদিন থেকে তাঁর পরিচয় কয়েদি নম্বর ১৫৫২৮।

প্রজ্জ্বল রেভান্না।
শেষ আপডেট: 4 August 2025 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই গেল বছরেও প্রজ্জ্বল রেভান্নার হাসানের সাংসদ হিসেবে প্রতি মাসে মূল বেতন ছিল ১.২ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে পেতেন বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা। বেঙ্গালুরুর পরাপ্পনা অগ্রহরা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে যাবজ্জীবন অতিথি হয়ে এলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার নাতি, তথা কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো প্রজ্জ্বল। এদিন থেকে তাঁর পরিচয় কয়েদি নম্বর ১৫৫২৮। রবিবার ছাড়া সপ্তাহে ৬ দিন সশ্রম দণ্ড ভুগে দিনে মজুরি ৫৪০ টাকার বেশি নয়।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রজ্জ্বলকে এখনও নির্দিষ্ট কোনও কাজ দেওয়া হয়নি। তবে সাধারণত নতুন আসা কয়েদিদের দক্ষতার প্রয়োজন নেই, এমন কাজ দেওয়া হয়। যেমন- রুটি তৈরি কিংবা সেলাইফোঁড়াইয়ের কাজ। বছরখানেক গেলে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতি সোমবার আসামিদের কাজ বিতরণ করা হয়। তবে কাজ যাই হোক, ৬ দিনের সপ্তাহ ধরে ৮ ঘণ্টা পরিশ্রমের মজুরি দিনে ৫৪০ টাকার বেশি নয়।
জেলের নিয়ম অনুযায়ী, সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত সকলকেই বাধ্যতামূলক কাজ করতে হয়। স্বাস্থ্যঘটিত কারণ না থাকলে কয়েদিদের দিন শুরু হয় সকাল সাড়ে ৬টায়। তারপর নিত্যকর্মরে শেষে প্রাতঃরাশ দেওয়া হয়। সপ্তাহ জুড়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাবার সরবরাহ করা হয়। যেমন- রবিবার নিরামিষ পোলাও, টম্যাটো ভাত সোমবার, চিত্রান্না মঙ্গলে, বুধে পোহা, বৃহস্পতিবার পুলিওগারে, শুক্রবার উপমা ও ভাঙ্গি ভাত শনিবার সকালে দেওয়া হবে। দুপুর ও রাতে দেওয়া হয় রুটি বা চাপাটি, রাগি-র বল, সম্বর, সাদা ভাত ও বাটারমিল্ক। আমিষ খাবারের মধ্যে থাকে মঙ্গলবার ডিম। মাসের প্রথম ও তৃতীয় শুক্রবার মাটন বা খাসির মাংস। দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার চিকেন। দুপুরের খাবার দেওয়া হয় সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে এবং রাতের খাবার সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে। কাজের শেষে কয়েদিদের ব্যারাকে ফিরতে হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়।
অন্যদের মতোই বাড়ির পরিচারিকাকে ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত প্রজ্জ্বল রেভান্না সপ্তাহে দুটো ফোন করতে পারবেন। প্রতিবার ১০ মিনিট সময় পাবেন কথা বলার। সপ্তাহে একবার বাড়ির লোক দেখা করার সুযোগ পাবেন। প্রজ্জ্বলকে এখনও কাজ না দেওয়া হলেও সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্নাটকে প্রায় দেড় হাজার সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত আসামি তাঁদের মজুরির টাকা পাচ্ছেন না। যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা।