কখনও তিনি তিরুপতির মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ভিআইপি দর্শনের ব্যবস্থা চান, আবার কখনও নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত অনুরোধ করেন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 7 October 2025 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) এক আধিকারিক সেজে দেশের বিভিন্ন দফতর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন দিল্লির বাসিন্দা এক ব্যক্তি - পি রামা রাও। কখনও তিনি তিরুপতির মন্দির (Tirupati Temple) কর্তৃপক্ষের কাছে ভিআইপি দর্শনের ব্যবস্থা চান, আবার কখনও নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত অনুরোধ করেন। অবশেষে তাঁর প্রতারণার জাল ফাঁস হয়েছে। তবে অভিযুক্ত এখন পলাতক।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তিনটি পৃথক অভিযোগ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই (CBI) রাও-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারা অনুযায়ী মামলা হয়েছে - যার মধ্যে রয়েছে ৩১৮(৪) (বিশ্বাসভঙ্গজনিত প্রতারণা), ৩১৯(২) (ছদ্মবেশ ধারণ), ৩৩৬(৩) (জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নথি জাল করা), ৩৪০(২) (ইলেকট্রনিক নথি বা ডিজিটাল ফাইল জাল করে ক্ষতি করার চেষ্টা)। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬-ডি ধারাতেও অভিযোগ আনা হয়েছে, যা অনলাইনে ছদ্মবেশে প্রতারণার অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
প্রথম অভিযোগটি ওঠে গত জুলাই মাসে। তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (TTD) কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের উপসচিব পরিচয়ে রাও একটি চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি নিজে এবং তাঁর পরিবারের জন্য মে মাসে ‘সুপ্রভাতম দর্শন’-এর বিশেষ বন্দোবস্ত এবং তিনটি এসি ডাবল বেডরুমের থাকার ব্যবস্থা চেয়ে অনুরোধ করেন। ওই চিঠি ছিল ভুয়ো লেটারহেডে লেখা, যাতে PMO-র প্রতীক ও নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রীর দফতর সিবিআই-কে জানায়।
এর কিছুদিন পর রাও আবার নতুন ছদ্মবেশে সিম্বায়োসিস ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক উপাচার্যকে ফোন করেন, দাবি করেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যুগ্মসচিব পর্যায়ের আধিকারিক। ভর্তি সংক্রান্ত বিশেষ অনুরোধ জানানো হয় সেই ফোনে।
তৃতীয় অভিযোগটি আসে অগস্টের শেষে। সেইবার রাও নাকি কর্নাটকের মাইসুরু জেলার এক আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন একটি জমির নথি সংগ্রহের জন্য। এবার তিনি নিজের নাম বদলে ফেললেও, ব্যবহার করেন আগের সেই একই মোবাইল নম্বর এবং একই ‘যুগ্মসচিব’-এর পদ।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক সহকারী পরিচালক সিবিআই-কে লেখা চিঠিতে বলেন, “প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, রাও ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের আধিকারিক সেজে নামের অপব্যবহার করেছেন। তাই তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”
বর্তমানে রাও পলাতক। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর খোঁজে দিল্লি ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে।