আগের বছরের মতো এবারেও কাঁওয়ার যাত্রাপথে ধর্ম বেছে বেছে দোকানদারদের বিক্রিবাট্টার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর জেলায় স্বামী যশবীর নামে স্বঘোষিত এক সাধুর সাঙ্গপাঙ্গরা এই ‘অত্যাচার’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।
শেষ আপডেট: 2 July 2025 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন শ্রাবণ মাসে শিবের মাথায় জল ঢালার প্রথা ‘কাঁওয়ার যাত্রা’ নিয়ে ফের উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড। আগের বছরের মতো এবারেও কাঁওয়ার যাত্রাপথে ধর্ম বেছে বেছে দোকানদারদের বিক্রিবাট্টার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সেই মতো পুলিশ-প্রশাসনিক, সরকারি স্তরে কাজকারবার চলছে। একইসঙ্গে উগ্র হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠন দোকানদাররা হিন্দু কিনা দেখতে প্যান্ট খুলে পরীক্ষা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর জেলায় স্বামী যশবীর নামে স্বঘোষিত এক সাধুর সাঙ্গপাঙ্গরা এই ‘অত্যাচার’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।
বুধবার রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির প্রাক্তন সাংসদ এসটি হাসান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। কাঁওয়ার যাত্রাপথের ধারে খাবারের দোকানে দোকানে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মীরা ধর্মীয় পরিচয় বাছাইয়ের যে কাজ চালাচ্ছে তাকে একপ্রকারের ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সংবাদ সংস্থাকে হাসান বলেন, হোটেলে, চা-জলখাবারের দোকানে ঢুকে কর্মী ও স্থানীয় ব্যবসাদারদের নাম জানতে চাওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সন্দেহ হলে তাঁদের প্যান্ট খুলে দেখাতে হচ্ছে। এটা সন্ত্রাসবাদী কাজ নয়তো কী? পহলগামে যা হয়েছিল, তার থেকে আলাদা কী এটা? এটাও তো একধরনের জঙ্গিপনা, বলেন হাসান।
তাঁর আরও অভিযোগ, এত কিছু দেখেও রাজ্য সরকার চোখে পট্টি বেঁধে বসে রয়েছে। এর মানে সরকারেরও প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে পিছনে। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এ জাতীয় কাজ লজ্জার, এটা থামানো উচিত বলে তাঁর দাবি। প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের মতো উত্তরাখণ্ডেও বেশ কিছু হিন্দু সংগঠন খাবারের দোকানের কর্মীদের ধর্মীয় পরিচয় যাচাই করছেন। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গেরুয়াধারীরা পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তাঁদের জোরজবরদস্তি করছেন।
এই একই কাজের জন্য মুজফফরনগর পুলিশ কয়েকজন গেরুয়াধারীকে নোটিস দিয়েছে। এরা সকলেই স্বামী যশবীর মহারাজের শিষ্য বলে পরিচিত। তিনদিনের মধ্যে তাদের থানায় দেখা করতে বলা হয়েছে। এর জবাবে যশবীর মহারাজ হুমকির সুরে বলেছেন, নোটিসের জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু, যদি আমার ৬ হিন্দুবীরের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর করে তাহলে তার মূল্য চোকাতে হবে। তিনি বলেন, কেবল এই জেলাতেই গোটা রাজ্যজুড়ে আমাদের প্রচার চলছে। আমাদের হিন্দুবীরদের সঙ্গে রয়েছে সমগ্র সনাতনী সমাজ। পুলিশ নোটিস দিয়ে যদি এই আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করে তাহলে ভুল করবে। গোটা দেশ জুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।