
শেষ আপডেট: 22 January 2024 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যায় শ্রীরামজন্মভূমি তীর্থ ট্রাস্টের প্রধান পুরোহিত হলেন আচার্য সত্যেন্দ্র দাস। সোমবার সকালে তিনি বলেন, ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরই রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে দেশে। আর কারও দুঃখ কষ্ট থাকবে না’।
তা সত্যিই হলে তো ভালই। এর বেশি কি চাওয়ার আছে! ঘটনাচক্রে দেখা গেল, এই রাম পুজোর অভিজিৎ মুহূর্তেই বাংলার বকেয়া পাওনা নিয়ে নবান্নের কর্তাদের ডাক পড়ল দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ও কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কর্তারা বৈঠক করবেন তাঁদের সঙ্গে। মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি হবে ওই বৈঠক।
সূত্রের মতে, রাজ্যের ৬ জন সচিব পর্যায়ের অফিসার ওই বৈঠকে যোগ দিতে আজ কালের মধ্যেই দিল্লি যাবেন। পঞ্চায়েত সচিব উল্গানাথন ইতিমধ্যে রওনা হয়ে গিয়েছেন বলেও খবর।
বাংলার বকেয়া পাওনা ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ১৯ ডিসেম্বর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। বকেয়া পাওনা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য মতের যে ফারাক রয়েছে, তা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মমতা আরও জানিয়েছিলেন, নবান্নের সঙ্গে এই বৈঠকের জন্য তাঁর সচিবালয়ের অফিসারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই ভাবে নবান্নের অফিসারদের নিয়েও একটা টিম তৈরি হবে।
মোদী-মমতা ওই বৈঠকের পর যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে নবান্ন সব হিসেবের ফাইল গুছিয়ে রেখেছে। মূলত পঞ্চায়েত দফতরের বকেয়া পাওনাই বেশি। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিপর্যয় মোকাবিলা, অর্থ এবং সমাজকল্যাণ দফতরের বহু হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে রাজ্যের দাবি। এর মধ্যে পঞ্চায়েত দফতরের বকেয়া পাওনা কম করে ২০ হাজার কোটি টাকা।
পঞ্চায়েত দফতরের বড় বকেয়া পাওনার মধ্যে রয়েছে অন্যতম দুই প্রকল্প। একশ দিনের কাজ প্রকল্পে বকেয়া পাওনা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। আর গ্রামীণ আবাস যোজনায় দিল্লির থেকে পাওনা রয়েছে ৮২০০ কোটি টাকা।
দিল্লিতে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ক্ষেত্র তৈরি হতে নবান্নের অনেকেই আশার আলো দেখছেন। তাঁদের মতে, কিছু না কিছু এবার হবেই। গত প্রায় দেড় বছর ধরে যে স্থিতাবস্থা চলছিল, তা কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন।
তবে নবান্নে ভিন্ন ভাবনাও রয়েছে। এক শীর্ষ আমলার কথায়, ভারত-পাক কূটনৈতিক সম্পর্ককে সহজ করতে এক সময়ে মোহালিতে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন স্টেডিয়ামে। অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, মোহালির পিচে প্রথম বল পড়তেই নাকি শান্তির দরজা খুলে যাবে।
কিন্তু কূটনীতি অত সহজ নয়। দ্বিপাক্ষিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও হয়নি। বরং মুখ দেখাদেখি প্রায় নেই বললেই চলে। সুতরাং নয়াদিল্লি যে বৈঠকে ডেকেছে তা থেকে এখনই খুব আশা করে ফেললে ভুল হবে। অচলাবস্থা কাটিয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে, এই টুকুই ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের কর্তাদের সামনে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কর্তারা ধরে ধরে হিসাব চাইবেন। সেই হিসাব শুধু মেলালে চলবে না, উল্গানাথনদের সামনে চ্যালেঞ্জ হল সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের অফিসারদের কনভিন্স করা তথা তাঁদের বোঝানো। তবেই বকেয়া পাওনা নিয়ে জট কাটতে পারে।