
নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেছেন।
শেষ আপডেট: 29 August 2024 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে বুধবার রাতে দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেছেন। সুষমা স্বরাজ মেমোরিয়াল হলে সন্ধ্যার পর মন্ত্রী-সচিবদের নিয়ে টানা পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নরেন্দ্র মোদী প্রায় এক ঘণ্টা ভাষণ দেন। বৈঠকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার রুমে শিক্ষকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।
বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল মূলত ভোকাল টনিক। তিনি মন্ত্রী-সচিবদের উৎসাহ দেন আরও ভাল করে কাজ করার। এই কথা বলতে গিয়ে তিনি ‘রিমফম’, ‘পারফর্ম’, ‘ট্রান্সফর্ম’ ও ‘ইনফর্ম’-এই চারটি ইংরিজি শব্দ ব্যবহার এবং প্রশাসনে কীভাবে সেগুলির প্রয়োগ ঘটাতে হবে তা ব্যাখ্যা করেন।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তৃতীয় সরকারের মেয়াদ এখনও একশো দিন না পেরনোর আগেই মোদী কেন মন্ত্রী-সচিবদের ভোকাল টনিক দিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর কৌশল হল, এনডিএ-র শরিক দলের মন্ত্রীরাও সরকারের হয়ে ঢাক পেটানোর কাজ করুক। সরকার ভাল কাজ করছে, এই প্রচারে শরিক মন্ত্রীরাও শামিল হন। কারণ, নানা ইস্যুতেই দেখা যাচ্ছে শরিক দলগুলির সঙ্গে সরকারের মতের মিল হচ্ছে না। বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিরোধীদের সুরে শরিক মন্ত্রীরা আপত্তি তোলায় মোদী সরকারকে পিছু হটতে হয়েছে। তাই মোদী চাইছেন মন্ত্রীরা সরকারের ভাল কাজ নিয়ে এক সুরে কথা বলুন।
আরও একটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকটির জন্য এমন সময় বেছে নিয়েছেন যখন হরিয়ানা ও জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভার ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। আগামী মাসে জারি হবে মহারাষ্ট্র ও ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ভোটের নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি। এছাড়া, উত্তর প্রদেশে ১০টি বিধানসভা ভোটকেও বিজেপি পাখির চোখ করেছে।
বুধবারের বৈঠকে মোদী বলেন, আমরা কর ব্যবস্থায় সংস্কার করেছি। আমূল বদলে গিয়েছে ব্যাঙ্কিং সেক্টর। বহু আইনকে সময়োপযোগী করা হয়েছে। তবে, এগুলি বৃহৎ সংস্কার। প্রশাসনের অন্দরে আরও অনেক বিষয় আছে যেগুলির সংস্কার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও সচিবদের বলেন, এগুলি চিহ্নিত করে আপনারা নিজেরাই তা বদলে নিতে পারেন। লক্ষ্য হবে কাজ যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়।
পারফর্ম নিয়ে মোদীর বক্তব্য, আমাদের আরও পরিশ্রম করতে হবে এবং তা হতে হবে ফলদায়ক। মন্ত্রী-সচিবদের মন্ত্রকের কাজে আরও মনোনিবেশ করা দরকার। প্রতিটি কাজ নিয়মিত পর্যলোচনা করা দরকার। কাজ যেন থেমে না থাকে।
ট্রান্সফর্ম অর্থাৎ রূপান্তর নিয়ে বলতে গিয়ে মোদী বলেন, আমাদের সংস্কার প্রক্রিয়াগুলির সাহায্যে কী ধরনের পরিবর্তন সম্পন্ন হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। রূপান্তরের জন্যই তো সংস্কার। মানুষের সামনে পরিবর্তনগুলি সহজ ভাষায় তুলে ধরা প্রয়োজন। যাতে তারা বুঝতে পারেন, সরকার আসলে কী কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ যে শব্দটির উপর জোর দেন তা হল ইনফর্ম। তিনি বলেন, আমরা অনেক কাজ করি। কিন্তু মানুষ কি আমাদের ভাল কাজের বিষয়ে অবগত? মোদী সচিবদের বলেন, সরকারের ভাল কাজের কথা তুলে ধরা আপনাদেরও কর্তব্য। এরমধ্যে সংকোচের কিছু নেই। মানুষকে সুবিধার কথা না জানালে তারা জানবে কী করে।
এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ (২৮ অগাস্ট) একটি বিশেষ দিন। দশ বছর আগে এই দিনে আমাদের সরকার জনধন যোজনা চালু করেছিল। কিন্তু ক’জন তা মনে রেখেছে। ঘটনাচক্রে বুধবার ছিল তৃতীয় মোদী সরকারের ৮৫তম দিন। আর পনেরো দিনের মাথায় সরকার শততম দিনে পা দেবে। প্রধানমন্ত্রী এবার দায়িত্ব নিয়েই সব মন্ত্রককে প্রথম একশো দিনের কাজের রোডম্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। বুধবারের বৈঠকে তিনটি মন্ত্রক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়ে তাদের কাজের অগ্রগতি পেশ করে। বাকিদের শততম দিনে তা করতে হবে।