প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রথম দফার ভোটে বিপুল ভোটদানের হার নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ নভেম্বরের ভোটে ৬৫.০৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 8 November 2025 16:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার বিহারের নির্বাচনী প্রচারে (Bihar Elections) রাজ্যের বিরোধী দলগুলিকে ফের একবার কড়া ভাষায় আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) বললেন - আরজেডি (RJD) তথা মহাগঠবন্ধন (Alliance) বিহারের তরুণ প্রজন্মকে ভুল পথে চালিত করতে চাইছে! মোদী দাবি, বিরোধীদের লক্ষ্য ওদের শিক্ষিত যুবক নয়, বরং গুন্ডা করে তোলা। অন্যদিকে, এনডিএ সরকার (NDA Govt) যুবসমাজকে কম্পিউটার ও খেলাধুলার সুযোগ দিচ্ছে - এই বার্তাই দেন প্রধানমন্ত্রী।
সীতামারহিতে এক নির্বাচনী সভায় মোদী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা তরুণদের হাতে কম্পিউটার, স্পোর্টস ইকুইপমেন্ট তুলে দিচ্ছি। আর ওরা? ওরা নাকি পিস্তল দিতে চায়! নিজেদের সন্তানদের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ বানাতে চায়, আর সাধারণ মানুষের সন্তানদের গুন্ডা বানাতে চায়। বিহার এটা কখনও মেনে নেবে না।” একই ভাষায় বেতিয়াতেও আক্রমণ শানান তিনি।
আরও তীব্র সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আরজেডির প্রচার গানের লাইন আর স্লোগান শুনলে শিউরে উঠতে হয়। তাদের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে, ছোট ছোট ছেলেদের দিয়ে বলানো হচ্ছে - তারা বড় হয়ে গুন্ডা হতে চায়! এই শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে ওরা।” মোদীর এই বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, কারণ সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে (Viral Video) দেখা গেছিল, মাত্র দশ বছরের এক বালক আরজেডির এক প্রার্থীর সভায় দাঁড়িয়ে পিস্তল ও দাদাগিরির কথা বলছে।
মোদীর কথায়, “আজকের বিহারে যারা ‘হাত উপরে করো’ বলে ভয় দেখাতে চায়, তাদের কোনও জায়গা নেই। বিহারের দরকার নতুন প্রজন্ম, যারা স্টার্ট-আপের স্বপ্ন দেখে।” সেই সঙ্গেই নতুন স্লোগানও দেন তিনি - “নাই চাহিয়ে কট্টা সরকার, ফির একবার এনডিএ সরকার।” তাঁর কথায়, “জঙ্গলরাজ মানে কুসংস্কার আর দুর্নীতি। এই অপশাসনের ফলে বিহার একসময় পিছিয়ে পড়েছিল। উন্নয়ন নিয়ে ওদের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
প্রধানমন্ত্রী এদিন প্রথম দফার ভোটে বিপুল ভোটদানের হার নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬ নভেম্বরের ভোটে ৬৫.০৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। মোদীর দাবি, “এই ভোটের হারই বিরোধীদের জন্য বড় ধাক্কা - তাদের ঘুম উড়ে গেছে।”
উল্লেখ্য, বিহারে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোট হবে ১১ নভেম্বর, আর ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর।