যদি প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর অর্ধেক সাহস থাকত তাহলে তিনি সংসদে এসে জোর গলায় বলতেন, আমাদের একটিও বিমান ধ্বংস হয়নি। এবং সত্য প্রকাশ করে বলতেন, সংঘর্ষ বিরতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করে দেননি।

রাহুল বলেন, সব দেশ সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছে কিন্তু কোনও দেশ পাকিস্তানের নিন্দা করেনি।
শেষ আপডেট: 29 July 2025 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংসদে বিশেষ বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মঙ্গলবার বলেন, পহলগামে জঙ্গিহানার পর বিরোধী দলগুলি ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকারের। দেশের বাহিনীকে সমর্থন জানিয়েছিল। পাকিস্তানকে দোষারোপ করে রাহুল বলেন, ওরাই পহলগামে পর্যটকদের উপর এই নৃশংস, হৃদয়হীন ও নির্দয় হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই সভার প্রত্যেকটি সদস্য পাকিস্তানের নিন্দা করেছেন।
দেশের বিরোধী জোট এক হয়ে সরকারের পাশে ছিল। তিনি নিজেও বিনয় নারওয়ালের বাড়ি ও অন্য নিহতদের বাড়ি গিয়েছিলেন বলে জানান কংগ্রেস নেতা। সেদিন যা ঘটেছিল, তা ঠিক নয়। রাজনৈতিক কাজে আমি যখনই কোনও সেনার সঙ্গে হাত মিলিয়েছি, তখনই অনুভব করেছি, এটা বাঘের থাবা, এটাকে ঝাঁকানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ভারতীয় বাহিনীকে ব্যবহার করতে চায়, তাহলে তাকে ১০০ শতাংশ রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োগ করতে হবে। এবং বাহিনীকে অভিযান চালানোর সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে।
অতীতের কথা টেনে রাহুল বলেন, ১৯৭১ সালে সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছিল। আর সে কারণেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যুদ্ধ চালাতে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ-কে। পাকিস্তানি ডিজিএমও-কে ভারত সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, অপারেশন সিঁদুরের পর উত্তেজনা বাড়ুক তা চায় না নয়াদিল্লি। আপনারা বলেছেন, পাকিস্তানিদের কী করা উচিত তা বলে দেওয়া হয়েছিল। কল্পনা করুন, দুজন লড়াই করছে। এবং একজন আরেকজনকে মারছে আর বলছে আমি তোমায় মেরেছি কিন্তু, এখন আর উত্তেজনা বাড়িও না, বলেন রাহুল।
ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানকে বলে দিয়েছিল যে, অপারেশন সিঁদুরের পর তাদের কোনও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নেই। এরপর আর লড়াই হবে না। রাহুল বলেন, সব দেশ সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করেছে কিন্তু কোনও দেশ পাকিস্তানের নিন্দা করেনি। যদি প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে ইন্দিরা গান্ধীর অর্ধেক সাহস থাকত তাহলে তিনি সংসদে এসে জোর গলায় বলতেন, আমাদের একটিও বিমান ধ্বংস হয়নি। এবং সত্য প্রকাশ করে বলতেন, সংঘর্ষ বিরতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করে দেননি। সরকার ও মন্ত্রীরা বলছেন, পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিয়েছি। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পরেই সেদেশের সেনাপ্রধান ট্রাম্পের সঙ্গে দুপুরে খাওয়া খাচ্ছেন।
রাহুল সরাসরি মোদীকে আক্রমণ করে বলেন, এ সবকিছুর লক্ষ্যই হল প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিকে রক্ষা করে যাওয়া। সরকারকে টিপ্পনি কেটে রায়বরেলির সাংসদ বলেন, জয় হাসিল হয়েছে কিন্তু অভিযান এখনও শেষ হয়নি। আমি চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফস জেনারেল চৌহানকে বলতে চাই, আপনার কোনও ভুল ছিল না। এটা সেই রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যারা সেনাবাহিনীর হাত বেঁধে দিয়েছিল। সরকারকে উদ্দেশ করে রাহুল বিঁধে বলেন, যুদ্ধের মাঝপথে আপনারা সেনাবাহিনীর হাত বেঁধে দিয়েছিলেন সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করে।
চিনকে নিশানা করে রাহুল বলেন, আমি প্রথম থেকে বলছিলাম যে এই যুদ্ধে চিন তথ্য সরবরাহ করে পাকিস্তানকে সাহায্য করছে। পাকিস্তান ও চিন এক হয়েছে। যদি সরকার সেই সময় আমার কথা শুনত তাহলে অপারেশন সিঁদুরে ভারত পাঁচটি যুদ্ধবিমান হারাত না। মোদীকে তাক করে বলেন, ভারতকে চিন-পাকিস্তানি বাহিনীর মিশ্রণের সঙ্গে লড়তে হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এত সাহস নেই যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী বলেন। এবং সেনাবাহিনীকে বাকি থাকা কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন, বলেন রাহুল।