মোট ২ লক্ষ ২৬ হাজার ২০৩ বর্গফুট এলাকায় বিস্তৃত এই প্রশাসনিক পরিকাঠামোর কাছেই তৈরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবন, যা আপাতত ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট–২’ নামে পরিচিত।
.jpeg.webp)
নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 12 January 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti) দিনই নতুন দফতরে যেতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। সব কিছু ঠিক থাকলে ১৪ জানুয়ারি তিনি কাজ শুরু করবেন সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি নতুন কমপ্লেক্স ‘সেবা তীর্থ’তে (Seva Tirtha)। স্বাধীনতার পর এই প্রথম সাউথ ব্লক ছেড়ে অন্যত্র সরছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)।
সূত্রের খবর, নতুন এই কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সংক্রান্ত দফতরের জন্য আলাদা আলাদা ভবন তৈরি করা হয়েছে। পিএমও থাকবে ‘সেবা তীর্থ–১’ ভবনে। আধুনিক কর্মপরিসর ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের জন্য বৃহৎ কক্ষ নিয়ে তৈরি এই ভবনের ভাবনায় রয়েছে ‘সেবা’ বা জনসেবার ধারণা।
ইতিমধ্যেই ‘সেবা তীর্থ–২’ ভবনে স্থানান্তরিত হয়েছে ক্যাবিনেট সচিবালয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরেই তারা সেখানে কাজ শুরু করেছে। অন্য দিকে, ‘সেবা তীর্থ–৩’ ভবনে থাকবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দফতর।
এই স্থানান্তরের সঙ্গে শেষ হচ্ছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৯৪৭ সাল থেকে দক্ষিণ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। পিএমও সরে গেলে দক্ষিণ ও উত্তর ব্লক— এই দুই ঐতিহ্যবাহী ভবনকে রূপান্তরিত করা হবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এক বৃহৎ সংগ্রহশালায়। প্রস্তাবিত ওই জাদুঘরের নাম ‘যুগে যুগীন ভারত সংগ্রহালয়’। এর উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ফ্রান্সের মিউজিয়াম ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
‘সেবা তীর্থ’ বা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ কমপ্লেক্সটি তৈরি হচ্ছে প্রায় ১,১৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে। নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে 'এল অ্যান্ড টি'। মোট ২ লক্ষ ২৬ হাজার ২০৩ বর্গফুট এলাকায় বিস্তৃত এই প্রশাসনিক পরিকাঠামোর কাছেই তৈরি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবন, যা আপাতত ‘এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট–২’ নামে পরিচিত।
এই স্থানান্তরকে ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার থেকে সরে আসার ভাবনারই অংশ হিসেবে দেখছে মোদী সরকার। এর আগে রাজপথের নাম বদলে ‘কর্তব্য পথ’ করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজকর্ম আধুনিক ও আরও দক্ষ করে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রককে এক ছাতার তলায় আনার উদ্যোগও চলছে।
সেই লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে একাধিক কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ভবন। গত বছর অগস্টে উদ্বোধন হওয়া ‘কর্তব্য ভবন’-এ ইতিমধ্যেই একাধিক মন্ত্রক কাজ শুরু করেছে। নতুন দফতরে প্রধানমন্ত্রীর স্থানান্তরের সঙ্গে সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।