এ দিনের ধ্বজা উত্তোলন ছিল সম্পূর্ণ অন্য রকম। প্রচলিত পদ্ধতির মতো দড়ি টেনে নয়, বিশেষ এক প্রতীকী ‘নমস্কার-হাত’ যন্ত্র চালিয়ে ওপরে ওঠে গেরুয়া পতাকা।
.jpeg.webp)
যেভাবে বিশেষ যন্ত্রে ধর্মধ্বজা তুললেন প্রধানমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 25 November 2025 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যার শ্রী রামজন্মভূমি (Ram Mandir) মন্দিরে মঙ্গলবার ইতিহাস তৈরি হয়েছে। মন্দিরের ১৬১ ফুট উচ্চ শিখরে ধর্মধ্বজা তুলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। উপস্থিত ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat), উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
কিন্তু এ দিনের ধ্বজা উত্তোলন ছিল সম্পূর্ণ অন্য রকম। প্রচলিত পদ্ধতির মতো দড়ি টেনে নয়, বিশেষ এক প্রতীকী ‘নমস্কার-হাত’ যন্ত্র চালিয়ে ওপরে ওঠে গেরুয়া পতাকা। বৈদিক আচার শেষ হতেই মোদী এবং মোহন ভাগবত ওই যন্ত্রের সামনে গিয়ে হাতের ভঙ্গির মতো কাঠামোটি সামনে ঠেলে দেন। সেটাই সক্রিয় করে তোলে পতাকা ওঠার ব্যবস্থাটি।
ধর্মধ্বজা উড়তেই মোদী জানালেন, “এই ধ্বজা শুধু একটি পতাকা নয়, এ ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের প্রতীক। এর গেরুয়া রং, সূর্যবংশের চিহ্ন, ‘ওম’-লিপি এবং কোবিদার বৃক্ষ— সবই রামরাজ্যের মহিমা বহন করছে। আগামী হাজার হাজার বছর ধরে এই ধ্বজা রামের আদর্শকে ঘোষণা করে যাবে।”
অযোধ্যায় ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, “শতাব্দীর ক্ষত আজ শান্তি পাচ্ছে, শতাব্দীর বেদনা আজ প্রশমন খুঁজে পাচ্ছে।” তাঁর কথায়, পাঁচ শতকের দীর্ঘ সাধনা ও অপেক্ষার পর এক মহাযজ্ঞের পরিণতি ঘটল আজকের এই দিনে। “এই যজ্ঞের অগ্নি কোনও দিন বিশ্বাস থেকে সরে যায়নি, কখনও আস্থার বন্ধন আলগা হয়নি,” মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)।
২২ ফুট লম্বা ও ১১ ফুট চওড়া এই গেরুয়া পতাকা তৈরি হয়েছে প্যারাশুট মানের কাপড়ে। মোটা নাইলনের রসিতে বাঁধা ধ্বজাটি এখন শোভা পাচ্ছে মন্দিরের শিখরে। সূর্যবংশের প্রতীক সূর্য, ‘ওম’-চিহ্ন এবং রামরাজ্যের ‘রাজ্যবৃক্ষ’ কোবিদার— এই তিন প্রতীকেই সজ্জিত পতাকা।
২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরে বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হয়। ২০২০-র অগস্টে প্রধানমন্ত্রী ভূমিপুজো করেন। সেই নির্মাণকাজের পর্বে মঙ্গলবারের এই ধ্বজা উত্তোলনকে ধরা হচ্ছে মন্দির-পরিসরের আনুষ্ঠানিক পূর্তির প্রতীক হিসেবে।
শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট (Ram Janmabhoomi Trust) জানিয়েছে, বিশাল শ্রীরাম মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ। মূল মন্দির ছাড়াও গোটা চত্বরে একই পাঁচিলের ভিতরে রয়েছে শিব, গণেশ, হনুমান, সূর্য, ভগবতী ও অন্নপূর্ণা মন্দির। সব মন্দিরের শীর্ষেই কলস ও ধ্বজাদণ্ড স্থাপন করা হয়ে গেছে। মঙ্গলবার ধ্বজা উত্তোলনও হয়ে গেল।