এই বৈঠকে মূলত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা (supply chain) এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর এই সংঘর্ষের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ২২ মার্চও একটি বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

বুধবার সন্ধ্যায় উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী
শেষ আপডেট: 1 April 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব (West Asia conflict impact India) খতিয়ে দেখতে বুধবার সন্ধ্যায় উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi CCS meeting West Asia)। জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টায় ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS)-এর বিস্তৃত বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
এই বৈঠকে মূলত ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা (India energy security), সরবরাহ ব্যবস্থা (supply chain) এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর এই সংঘর্ষের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে ২২ মার্চও একটি বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
কারা থাকছেন বৈঠকে
নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণকারী বডি, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়গুলির খেয়াল রাখা যার লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই কমিটির সদস্যরা হলেন -
এছাড়াও কৃষি, বাণিজ্য, রেল, জাহাজ পরিবহণ, পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, খাদ্য এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরাও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন।
আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতা
২২ মার্চও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি একই ধরনের বৈঠক হয়েছিল, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের জরুরি পণ্য ও পরিষেবার উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে খাদ্য, সার, জ্বালানি এবং বিদ্যুতের মতো অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তখন নির্দেশ দিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এবং শীর্ষ আধিকারিকরা সমন্বিতভাবে কাজ করে এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে এবং তার ভারতের উপর প্রভাব বিশ্লেষণ করে তা মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সার, বিদ্যুৎ ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
খরিফ মরসুমের আগে সারের জোগান নিশ্চিত করতে বিকল্প আমদানির উৎস খোঁজার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছিল আগের বৈঠকে। এছাড়াও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার মজুত এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাসায়নিক, ওষুধ ও পেট্রোকেমিক্যালের মতো খাতে আমদানির উৎস বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ভারতীয় পণ্যের নতুন রফতানি বাজার খোঁজার বিষয়ও বিবেচনায় আসে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাপ্লাই চেইনের চ্যালেঞ্জ
এই সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে কৃষি, পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, এমএসএমই, শিপিং, অর্থনীতি এবং লজিস্টিক্স-সহ একাধিক ক্ষেত্রে। সরকারের লক্ষ্য - সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে স্থিতিশীল থাকে এবং কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এই পরিস্থিতি ক্রমশ বদলাচ্ছে, তাই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে যাতে কোনওভাবেই প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারি বা কালোবাজারি না হয়, সে দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি সংকট নিয়ে মোদীর মন্তব্য
৩১ মার্চ গুজরাতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে ডিজেল, পেট্রল ও গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও ভারতের অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে কার্যকর বিদেশনীতি এবং দেশের মানুষের ঐক্যের জোরে।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জেরে “আর্থিক ভূমিকম্প” হতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকেই এই সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়। এর পাল্টা জবাব দেয় ইরান, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, সেখানে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার জটিল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে এখন সবার নজর।