
শেষ আপডেট: 27 October 2023 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরকীয়া বা ব্যভিচারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হোক, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এমনই আর্জি জানাতে চলেছে সংসদীয় কমিটি। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এর আগে রায় দিয়েছিল, পরকীয়া অপরাধ নয়। পরকীয়া করার জন্য কারও জেল হতে পারে না। পরকীয়া ডিভোর্সের গ্রাউন্ড হতে পারে কিন্তু ফৌজদারি অপরাধ নয়। অর্থাৎ, পরকীয়ার অভিযোগ এনে স্বামী বা স্ত্রী ডিভোর্স চেয়ে দেওয়ানি বিধিতে আইনত মামলা করতে পারেন।
কিন্তু এবার স্রোতের বিপরীতে হাঁটতে চাইল সংসদীয় কমিটি। কমিটির মতে, ব্যভিচার আইনে শুধুমাত্র পুরুষদেরই অপরাধী এবং শাস্তিযোগ্য বলে মনে করা হত। এই আইনেও বদল এনে লিঙ্গবৈষম্য ঘোচানোর আর্জি জানিয়েছে সংসদের প্যানেল।
ব্রিটিশ জমানার আইনের জায়গায় নয়া বিল আনতে চাইছে সংসদীয় প্যানেল। ন্যায় সংহিতাকে আপাতত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে আলোচনার জন্য। এই আবহে সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব দিয়েছে, নয়া বিলে যেন পরকীয়া, সম্মতিহীন সমকামী যৌনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়। প্যানেলের তরফে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত করা হলে তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে চিঠি দিয়ে ব্যভিচার আইনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার আর্জি জানানো হয়েছে। সংসদীয় প্যানেলের প্রস্তাব, পুরুষ বা স্ত্রী, যেই পরকীয়া করুক না কেন, তা অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য ন্যায় সংহিতায় নতুন বিধান আনা হোক।
ব্যভিচারকে আর সেকেলে আইনের চোখে দেখতে চাইছে না সংসদীয় কমিটি। ব্রিটিশ জমানার সেই আইনে বদল এনে সমানাধিকারের ভাবনায় ব্যভিচারের ক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে এ বার মহিলাকেও শাস্তি দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
ভারতে ব্যভিচার সংক্রান্ত আইনটি ১৫৭ বছরের পুরনো। ভারতীয় দণ্ডবিধি আইপিসি-র ধারা ৪৯৭ বলছে যে, কোনও ব্যক্তি বিবাহিত কোনও মহিলার সঙ্গে স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্ক করলে তা ধর্ষণ নয়, ব্যভিচার হিসেবে গ্রাহ্য হবে। সেক্ষেত্রে এই পরকীয়া প্রমাণিত হলে এবং অভিযোগ দায়ের হলে শাস্তি শুধু পুরুষেরই হবে। যে মহিলার সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন তাঁর কোনও শাস্তি হবে না। পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে। অবশ্য ওই সম্পর্কে স্বামীর মত থাকলে বিষয়টি আর ব্যভিচারের অপরাধ হিসেবে গ্রাহ্য হবে না।
এতদিন অবধি দেখা গিয়েছিল পরকীয়ার ঘটনায় স্বেচ্ছায় নারী ও পুরুষ দু’জনেই জড়িত থাকলেও ধারা ৪৯৭ মহিলাকে নির্যাতিতা হিসেবেই দেখিয়েছে আর পুরুষের জন্য শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। কমিটির মতে, অপরাধ হলে বিবাহিতা মহিলাও তাতে সমান অংশীদার, ফলে শাস্তির প্রশ্নে তার ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে হবে।
এদিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির যে ৩৭৭ ধারাকে অসাংবিধানিক বলা হয়েছিল তাও ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কমিটির দাবি, সম্মিতিহীন সমকামিতাকে আপরাধ হিসেবেই দেখা হোক। কোনও পুরুষের অসম্মতিতে যদি কোনও পুরুষ তাকে যৌন হেনস্থা করে, বা কোনও নারীর অস্মতিতে কোনও নারী জোর করে যৌন সম্পর্ক তৈরি করতে চায়, তাহলে তাকে অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা উচিত। এমনকী রূপান্তরকামীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে কেউ তাঁর ওপর যৌন হেনস্থা করলে তাও এই বিধানে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত বলে মনে করেছে কমিটি।
গত বাদল অধিবেশনেই ব্রিটিশ জমানার সিআরপিসির বদলে 'ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা' কার্যকর করার জন্য সংসদে বিল পেশ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইপিসি, সিআরপিসি এবং ভারতীয় এভিডেন্স অ্যাক্ট তুলে দিয়ে নয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করা হবে।