লোকসভা অধিবেশনের শুরুতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতিতে নীরবতা পালনের পরেই বিরোধীরা পহলগাম নিয়ে আলোচনার দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ধ্বনিতে সরব হয়ে ওঠে নিম্নকক্ষ।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 21 July 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথমদিনের শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি মেজাজে লোকসভায় খেলতে নামে বিরোধীরা। লোকসভা অধিবেশনের শুরুতে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার স্মৃতিতে নীরবতা পালনের পরেই বিরোধীরা পহলগাম নিয়ে আলোচনার দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ধ্বনিতে সরব হয়ে ওঠে নিম্নকক্ষ। মাত্র ২০ মিনিট কাজ চলার পরেই দুপুর ১২টা পর্যন্ত সভা মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা।
বিরোধী সাংসদদের দাবি, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে সংঘর্ষ বিরতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার যে প্রসঙ্গ উঠেছে, সে ব্যাপারে সংসদে বিবৃতি দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। কংগ্রেস এমপি কেসি বেণুগোপাল বলেন, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিজয় উৎসব পালনের কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের দাবি, এ নিয়ে সংসদে আলোচনা হোক। এটা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আমরা আমাদের দেশ নিয়ে গর্ব করি। তবে প্রধানমন্ত্রীকে এগিয়ে এসে বিবৃতি দিতেই হবে। স্পিকার ওম বিড়লা সভার সদস্যদের জানান, প্রতিটি ইস্যুতে সরকার জবাব দেবে। কিন্তু, সভা চলতে দিন আপনারা। আপনারা এভাবে হইচই করে স্লোগান দিতে পারেন না। বিধি অনুসারে সব ইস্যুই উঠবে এবং আলোচনাও হবে। কিন্তু, তাতেও কংগ্রেস ও বিরোধীরা নিরস্ত না হওয়ায় শেষমেশ ১২টা পর্যন্ত সভা মুলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার।
প্রসঙ্গত, এদিন সকালে মোদী বলেন, মাত্র ২২ মিনিটে জঙ্গিদের পান্ডাদের বাড়ি ও ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অপারেশন সিঁদুরে। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের সামনে এই দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, এই বর্ষাকালীন অধিবেশন হল, বিজয় উৎসবের অধিবেশন। গোটা পৃথিবী দেখেছে ভারতের সামরিক শক্তির ক্ষমতা। অপারেশন সিঁদুরে আমাদের সেনাবাহিনী যে টার্গেট নিয়েছিল, তা ১০০ শতাংশ সফল হয়েছে।
মোদী বলেন, পহলগামে যে নৃশংস গণহত্যা হয়েছে তাতে গোটা বিশ্ব কেঁপে উঠেছে। দলগত স্বার্থ ঊর্ধ্বে তুলে রেখে জাতীয় স্বার্থে সব দলগুলি দেশের হয়ে বিশ্বের দরবারে আওয়াজ তুলেছে। তাঁরা সকলে মিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সফল প্রচার করে এসেছেন। আমি সেই সকল সাংসদদের ভূয়সী প্রশংসা করি। আমি সেইসব দলকেও এই কাজে সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, গোটা বিশ্বের কাছে এখন পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। বন্দুক ও বোমার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে আমাদের সংবিধান।
শুধু তাই নয়, এই অধিবেশন এমন একটা সময় হচ্ছে, যখন ভারতের তেরঙা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে উড়িয়ে আসা হয়েছে। যা সমগ্র ভারতবাসীর কাছে গর্বের বিষয়। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৪ সালে দেশবাসী আমাদের উপর যে দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল, তা আমরা পালন করেছি। দেশ অতি দ্রুত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির পথে এগিয়ে চলেছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের নাম না করে বলেন, ১৪ সালের আগে আমরা ছিলাম ১০ নম্বরে। আজ আমরা তৃতীয় স্থান দখলের জন্য দ্রুত এগচ্ছি।
কংগ্রেস আমলের কথা উত্থাপন করে মোদী আরও বলেন, ২০১৪ সালের আগে এমন একটা সময় ছিল যখন মুদ্রাস্ফীতির হার দুই অঙ্কে পৌঁছেছিল। আর আজ মুদ্রাস্ফীতির হার নেমে প্রায় ২ শতাংশে পৌঁছেছে। এতে সাধারণ মানুষের উপর খরচে বোঝা অনেক লাঘব হয়েছে। দেশের ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে বেরিয়ে এসেছেন। যা বিশ্বের সকলের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে।