পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে দু'বছর ধরে তিন বোনই স্কুলে যায়নি। তাদের আলাদা মোবাইল ফোনও ছিল না।

গাজিয়াবাদকাণ্ড
শেষ আপডেট: 4 February 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনলাইন গেমের আসক্তি কেড়ে নিল তিনটি তরতাজা তরুণ প্রাণ। গাজিয়াবাদে বিল্ডিংয়ের ন'তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয় তিন বোন (Ghaziabad Three Sisters Death Case)। তাদের বাবার অভিযোগ, মেয়েরা যে অনলাইন টাস্ক-বেসড গেমে (Online Task-Based Game) আসক্ত ছিল, তার ‘ফাইনাল গোল’ নাকি আত্মহত্যা, সেই কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। ঘটনার সময় তিন বোন তাদের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা বহু চেষ্টা করেও সময়মতো দরজা ভাঙতে পারেনি, দরজা ভাঙার আগেই বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেয় তিনজন।
কোরিয়ান গেমে আসক্তি, নিজেদের রাখত কোরিয়ান নাম
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় থেকেই তারা এই গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। বাবা–মা তাদের এই অভ্যাস নিয়ে বহুবার বকাবকি করতেন। গেমের প্রতি এমন টান ছিল যে তিন বোন নিজেদের কোরিয়ান নামও রেখেছিল। তিনজনের মধ্যে সম্পর্কও ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ- একসঙ্গে খাওয়া, স্নান, ঘুম- সবই করত একই সময়ে।
অস্তিত্বহীন ‘কোরিয়া’ ছেড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা লিখেছে ডায়েরিতে
তিন বোন- ১৬ বছরের বিষিকা, ১৪ বছরের প্রাচি এবং ১২ বছরের পাখির দেহ (Three sisters dying by suicide) ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাদের ঘর থেকে ৮ পাতার একটি নোট উদ্ধার করেছে। সেখানে একটি কাঁদছে এমন ইমোজিও আঁকা ছিল। নোটে লেখা, 'এই ডায়েরিতে যা লিখেছি সব সত্যি। পড়ো… আমরা কোরিয়া ছাড়তে পারব না… খুব দুঃখিত, বাবা…” ঘরের দেওয়ালেও লেখা, 'I am very, very alone'
দুই বছর স্কুলে যায়নি, ফোন ছিল বাবা’র
পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে দু'বছর ধরে তিন বোনই স্কুলে যায়নি। তাদের আলাদা মোবাইল ফোনও ছিল না। বাবার ফোন দিয়েই গেম খেলত। পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনই পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল না।
বাবার অসহায় মন্তব্য
মৃত তিন মেয়ের বাবা চেতন কুমার বলেছেন, "আমি জানতামই না ওরা কী খেলছে। জানলে কখনওই অনুমতি দিতাম না। এমন ঘটনা আর কোনও সন্তান আর তার পরিবারের সঙ্গে না ঘটুক, এই আবেদন করি।”
‘ব্লু হোয়েল’-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি
পুলিশ বলছে, অতীতে ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’ বা ‘PUBG’-এর নেশায় মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে এই ঘটনার ভয়াবহ মিল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শিশু–কিশোরদের অনলাইনে অচেনা, বিপজ্জনক গেমের প্রতি আকর্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হল।
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: এই খবরটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি মানসিক সংকটে থাকেন, দয়া করে নিকটবর্তী সাহায্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। মনে রাখুন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়।