
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 29 April 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারতের নির্দেশে দেশে ফিরতে বাধ্য হলেন বহু পাকিস্তানি নাগরিক। এই তালিকায় রয়েছেন সিন্দ প্রদেশের হায়দরাবাদের বাসিন্দা শাহিদ আলিও, তিনি তাঁর দুই নাবালক সন্তানের জীবনরক্ষায় ভারতে এসেছিলেন মার্চ মাসে। দিল্লিতে চিকিৎসা শুরু করলেও, শেষপর্যন্ত সেই তা সম্পূর্ণ না করেই পাকিস্তানে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের।
তাঁরা ইতিমধ্যেই আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে দেশে ফিরবেন খুব শীঘ্রই। সীমান্তের দুই প্রান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর তাঁদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় ২২ এপ্রিল অর্থাৎ গত মঙ্গলবার ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। মৃত্যু হয় ২৬ জনের। পরে কেন্দ্রীয় সরকার সকল পাকিস্তানি নাগরিককে দেশ ছেড়ে নিজ দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। জারি করা হয় লিভ ইন্ডিয়া নোটিস। এই পরিবারটির ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২৭ এপ্রিল এবং চিকিৎসা ভিসার মেয়াদ শেষের কথা ছিল ২৯ এপ্রিল। নির্দেশের জেরে শাহিদ আলি তাঁর ৯ বছরের তালহা ও ৭ বছর বয়সি তাহাকে নিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
জানা গেছে, ওই দুই নাবালক জন্মগত হৃদরোগে ভুগছেন। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে দিল্লিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছিল চলতি বছর। অনেক কষ্টে মিলেছিল ভিসাও। শাহিদ আলি নামের ওই ব্যক্তি বলেন, 'দুর্ভাগ্যবশত, পহেলগামের ঘটনার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেল। আমাদের আবেদনগুলো যথাযথভাবে বিবেচনার সুযোগই দেওয়া হল না।' তিনি আরও জানান, চিকিৎসার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে, কিন্তু চিকিৎসা হল না, সেটা একটা বিরাট সমস্যা তো বটেই। আছে আরও অনেক কিছু। শাহিদের কথায়, 'দিল্লির চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও, অস্ত্রোপচার করা গেল না। এত অর্থ খরচ, এত আশা— সবই ব্যর্থ হল।'
শাহিদ আলি প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় করেছিলেন এই চিকিৎসার জন্য। তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাতে তাঁর দুই সন্তানের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসার ব্যবস্থা অন্তত অন্য কোনও দেশে করা যায়।
এমন অদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার শুধু শাহিদ হয়েছেন, এমন নয়। একই ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে আরেক পাকিস্তানি নাগরিক, আয়ানের সঙ্গে। দিল্লিতে আসার পর এক বছর ধরে চলা অসুস্থতার চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই তাঁকেও দেশে ফিরতে হয়েছে।
এখন পাকিস্তানি নাগরিকদের একটাই কথা, 'আমরা কেন ভুক্তভোগী হচ্ছি?'