
শাদমান চক
শেষ আপডেট: 11 November 2024 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভগৎ সিংকে সন্ত্রাসবাদী বলল পাকিস্তান। লাহোর মামলায় ২৩ বছর বয়সে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে ফাঁসি হওয়া ভগৎ সিংকে অপরাধী বলে মনে করে পাক কর্তৃপক্ষ। এই শহরের ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত শাদমান চকের নাম বদলে ভগৎ সিং করার পরিকল্পনা একইসঙ্গে জলাঞ্জলি দিল তারা। এই চকে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগৎ সিংয়ের একটি মূর্তি বসানোরও কথা ছিল। সেসবই বানচাল হয়ে যেতে বসেছে পাকিস্তান সরকারি কর্তৃপক্ষের ভাষ্যে।
নাম বদল ও মূর্তি বসানোর পরিকল্পনা বিচারে একটি এক সদস্যের কমিটি গড়েছিল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরের জেলা সরকার। জমা দেওয়া রিপোর্টে সেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন ভগৎ সিং মোটেই দেশপ্রেমী স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। তাঁর রিপোর্ট উদ্ধৃত করে সহকারী অ্যাডভোকেট জেনারেল আসগর লেঘারি লাহোর হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, ভগৎ সিংয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাধিকারিক তারিক মাজিদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ভগৎ সিং আইনের চোখে অপরাধী ও এখনকার ভাষায় সন্ত্রাসবাদী ছিলেন। লাহোরের ভগৎ সিং মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ রশিদ কুরেশি লাহোর হাইকোর্টে একটি আদালত অবমাননার আর্জি জানিয়েছিলেন। তার জবাবে এজি বলেন, ওই রিপোর্ট অনুসারে ওইখান স্থানের নাম বদল কিংবা মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে না বলে সরকার ঠিক করেছে। এমনকী আদালত অবমাননার আর্জিও ধোপে টেকে না।
মাজিদ নামে ওই প্রাক্তন সেনা অফিসার তাঁর রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, ভগৎ সিং মোটেই বিপ্লবী ছিলেন না, বরং অপরাধী ছিলেন। আজকের ভাষায় সন্ত্রাসবাদী ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ পুলিশ অফিসারকে হত্যা করেছিলেন। তাঁর অপরাধের জন্য দুজন সহযোগীর সঙ্গে তাঁকে ফাঁসির সাজা হয়েছিল। সে কারণে শাদমান চকের নাম বদলে ভগৎ সিংয়ের নামে করা কিংবা সেখানে বিপ্লবীর কোনও মূর্তি বসানো উচিত নয় বলে তিনি মত দেন।
রিপোর্টে আরও রয়েছে যে, ভগৎ সিং মুসলিমদের কোণঠাসা করতে ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন। এমনকী তাঁর নামে ভগৎ সিং ফাউন্ডেশন ইসলামি আদর্শ ও পাকিস্তানি সংস্কৃতি বিরোধী কাজ করে চলেছে। অবিলম্বে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছেন ওই প্রাক্তন সেনা আধিকারিক। কারণ ওই সংগঠনের জানা উচিত ছিল পাকিস্তান ইসলামি দেশে হিসেবে কারও মূর্তি স্থাপনের নীতি-আদর্শ বিরোধী।