পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) এক প্রকাশ্য সভা থেকে লস্করের শীর্ষ জঙ্গি কমান্ডার আবু মুসা কাশ্মীরি (Abu Musa Kashmiri) প্রকাশ্যে হিন্দু নিধনের ডাক দেয়।

আবু মুসা কাশ্মীরির দাবি, এই উন্মত্ত ও গণ হিন্দুহত্যার মতাদর্শ সে ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং একাধিক শীর্ষ মন্ত্রীর কাছেও পৌঁছে দিয়েছে।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর ইস্যুতে ফের খোলাখুলি ভারত-বিরোধী (Anti-India) হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা (LeT)। পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) এক প্রকাশ্য সভা থেকে লস্করের শীর্ষ জঙ্গি কমান্ডার আবু মুসা কাশ্মীরি (Abu Musa Kashmiri) প্রকাশ্যে হিন্দু নিধনের ডাক দেয়। তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও ভয়ঙ্কর— কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হবে কেবল সন্ত্রাস ও তথাকথিত ‘জেহাদ’-এর মাধ্যমে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই উস্কানিমূলক ভিডিওতে শোনা যাচ্ছে, সভাস্থলে উপস্থিত লোকজন চিৎকার করে বলছে,
ভিক্ষা করে স্বাধীনতা পাওয়া যায় না, হিন্দুদের গলা কেটেই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হবে। ঘৃণ্য এই ভাষণেই থেমে থাকেনি লস্করের ওই জঙ্গি নেতা। আবু মুসা কাশ্মীরির দাবি, এই উন্মত্ত ও গণ হিন্দুহত্যার মতাদর্শ সে ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং একাধিক শীর্ষ মন্ত্রীর কাছেও পৌঁছে দিয়েছে।
তার কথায়, জেহাদের মোড়কে সন্ত্রাস ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনও সমাধান নেই। এই মন্তব্য ফের একবার নগ্নভাবে ফাঁস করে দিল—ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হিংসায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ আদর্শগত ও রাজনৈতিক মদত আগেও যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। জানা গিয়েছে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ সংগঠন জেকেইউএম (জম্মু কাশ্মীর ইউনাইটেড মুভমেন্ট)-এর সঙ্গে যুক্ত আবু মুসা কাশ্মীরি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোট জেলার হাজিরা তহসিলের বাহিরা গ্রামে এক সভায় এই উসকানিমূলক ভাষণ দিচ্ছিল।
ভিডিওটি সামনে আসতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস পোষণের অভিযোগ নতুন করে জোরাল হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখার (LoC) এত কাছাকাছি এলাকায়, প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে জঙ্গিরা যদি এমন হিংসাত্মক ভাষণ দিতে পারে, তবে প্রশ্ন উঠছেই—পাক প্রশাসনের অজান্তে কি এসব সম্ভব হচ্ছে? গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পহলগাম হামলার আগেও আবু মুসা কাশ্মীরি একই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য রেখেছিল। ফলে এই ভিডিওকে শুধুমাত্র একটি বক্তৃতা বলে দেখছে না গোয়েন্দা মহল। তাদের মতে, এটি বৃহত্তর কোনও জঙ্গি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিতও হতে পারে।
ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ভিডিওটির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, অবস্থান যাচাই এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক ট্র্যাকিং শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এই ধরনের ভাষণের মূল উদ্দেশ্য— যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় ঠেলে দিয়ে ফের সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসের আগুন জ্বালানো।