
প্রায় চল্লিশ মিনিটের তাণ্ডব।
শেষ আপডেট: 23 April 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের পহেলগামে মঙ্গলবার যে হামলা চালিয়েছে জঙ্গিরা, তা বিগত কয়েক দশকে উপত্যকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী তাণ্ডব বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। এখনও পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে অন্তত ৬ জন সন্ত্রাসবাদী এই হামলা চালায়। সবার হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, একে-৫৭ এবং এম৪ কারবাইন। অভিযোগ, পর্যটকদের আইডি কার্ড চেক করে, হিন্দু পর্যটকদের আলাদা করে চিহ্নিত করে, রীতিমতো বেছে বেছে গুলি চালায় তারা। নিহত হন অন্তত ২৬ জন।
সন্দেহ করা হচ্ছে, এই জঙ্গিরা পীরপঞ্জাল পাহাড়ি পথ দিয়ে পহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় পৌঁছায় অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কিছু জঙ্গি খাকি ইউনিফর্ম পরে, যুদ্ধের সাজে ছিল, আবার কেউ কেউ সাধারণ পাঞ্জাবি-পাজামায় ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, হামলাকারীরা মহিলা পর্যটকদের ছেড়ে দেয়, কেবল পুরুষদের আইডি দেখে বেছে বেছে টার্গেট করে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এই সন্ত্রাসবাদীরা অনুপ্রবেশ করে দক্ষিণ কাশ্মীরের ত্রাল এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিল।
জানা গেছে, হামলার সময়ে ওই উপত্যকায় পুলিশ বা সেনাবাহিনীর কোনও উপস্থিতি ছিল না। ফলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অবাধে গুলি চালাতে থাকে জঙ্গিরা। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১০০টিরও বেশি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে, যা হামলার ভয়াবহতা ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রমাণ।
বৈসরন উপত্যকা পহেলগামের একটি জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য, যেখানে প্রতিদিন শতাধিক পর্যটক আসেন ঘোড়ায় চড়ে। মঙ্গলবারও এমনই হয়েছিল। সবুজ ময়দানে আনন্দ করে ঘুরছিলেন পর্যটকরা। দুপুর ২:৪৫ মিনিট নাগাদ একজন মহিলা পর্যটক প্রথম পুলিশের কন্ট্রোল রুমে ফোন করে জানান, বৈসরনে গুলি চলেছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, সিআরপিএফ ও সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে রওনা হয়।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ছ'জনের মধ্যে দু'জন কাশ্মীরি, যারা ২০১৭ সালে পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিল এবং সম্প্রতি অন্যান্য বিদেশি জঙ্গিদের সঙ্গে অনুপ্রবেশ করে ভারতে ঢোকে। এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে লস্কর-ই-তইবারও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীর উপত্যকায় প্রায় ৬০ জন সক্রিয় জঙ্গি রয়েছে, যার মধ্যে শুধু লস্করের সদস্যই ৩৫ জন এবং জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য ২১ জন।
এই হামলা আবারও প্রমাণ করল, উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং সন্ত্রাসবাদের ছায়া এখনও বহুদূর বিস্তৃত। পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বেছে বেছে হামলা করার প্রবণতা মেনে নিতে পারছে না গোটা দেশ।