
সর্বদল বৈঠক।
শেষ আপডেট: 25 April 2025 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় গাফিলতি ঘটেছিল। প্রশাসনের অজান্তে স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা পর্যটকদের জন্য রুট খুলে দেওয়াতেই পহেলগামে হামলার সুযোগ তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত এমনটাই স্বীকার করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্রের খবর, বিরোধী নেতাদের এমনটাই জানানো হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বৈঠকের আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, 'আমরা এই বৈঠক ডেকেছি, কারণ আমরা এই হামলা ঠেকাতে পারিনি।'
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
সরকারের তরফে জানানো হয়, প্রতি বছর জুন মাসে অমরনাথ যাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রুট পর্যটকদের জন্য খোলা হয়। কিন্তু এবার স্থানীয় পর্যটন সংস্থাগুলি প্রশাসনকে না জানিয়ে আগেই, অর্থাৎ ২০ এপ্রিল থেকেই, পর্যটক বুকিং নিতে শুরু করে। এতে প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ পায়নি।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ব্যুরোর ডিরেক্টরও বৈঠকে ১৫ মিনিটের একটি উপস্থাপনা দেন।
রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, 'সেই সময় এলাকায় একটিও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য কেন ছিল না?' আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং বলেন, 'এত বড় গাফিলতি কীভাবে ঘটল, সেটাই প্রশ্ন। সরকার বলেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা নিজেরাই রুট খুলে দেয়, অথচ প্রশাসনের খবরই ছিল না।'
বৈঠকে সব বিরোধী দলই একমত হয়, যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারকে সম্পূর্ণ সমর্থন করা হবে। তবে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপিকে 'হিন্দু-মুসলিম ইস্যু' বানানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বলেন, 'এই লড়াইয়ে দেশকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী যেন তাড়াতাড়ি সব রাজনৈতিক দলের প্রধানদের নিয়ে একটি পৃথক বৈঠক ডাকেন।' তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'বিজেপি কেন এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখাতে চাইছে?'
বৈঠকে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকে থাকা উচিত ছিল। কারণ তিনি শেষ সিদ্ধান্ত নেন, আর তাই নিজে শুনে বোঝা তাঁর উচিত ছিল, অন্যদের মাধ্যমে জানার বদলে।' পাশাপাশি সঞ্জয় সিংও প্রশ্ন তোলেন, 'প্রধানমন্ত্রী এদিন বিহারে একটি নির্বাচনী জনসভা করছিলেন। সেটাই কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?'
আইমিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও ছিলেন বৈঠকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'হামলার পরে দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী পাঠাতে এত দেরি হল কেন?' তিনি আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বায়ু ও সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের কথাও বলেন। তাঁর মন্তব্য, 'সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা অতিরিক্ত জল রাখব কোথায়?'
বৈঠক শেষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, 'বৈঠকে গোয়েন্দা ব্যুরো ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকরা নিরাপত্তা গাফিলতি এবং ভবিষ্যতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।'