
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 May 2025 22:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার (Jammu Kashmir Pahalgam Terror Attack) পর স্থানীয় একাধিক জঙ্গির বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী। সেইসব বাড়িগুলির মধ্যে লস্কর জঙ্গি ফারুক আহমেদ তাড়ওয়ারের বাড়িও ছিল। এই জঙ্গিহানার ঘটনায় তার নাম জড়িয়েছে। দেশবাসী তো এই জঙ্গির কড়া শাস্তি চায়, একই দাবি ফারুকের ভাইপোরও! সে চায়, 'কাকা'কে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই মারা হোক।
পহেলগাম হামলার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এনআইএ। তাঁদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ২ হাজারের বেশি কাশ্মীরি। ইতিমধ্যে ২০০-র কাছাকাছি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই অবস্থায় ফারুকের ভাইপো জাকিরের বক্তব্য, কাকা যদি কিছু করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হোক। পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই যেন তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু তাদের দিকে যেন কেউ আঙুল না তোলে। জাকিরের কথায়, 'আমরা ভারতকে ভালবাসি। সেনা, পুলিশ সকলকে সম্মান করি। যে দোষী, তাকে শাস্তি দেওয়া হোক, সেটাই উচিত।'
জাকির জানিয়েছে, ২০০০ সালে তার জন্ম। এদিকে ফারুক ১৯৯০ সালেই 'পিওকে'-তে চলে গেছিল। তারপর থেকে আর কখনও কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে আসেনি। কাকার বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দিয়ে তার মন্তব্য, ফারুকের মতো সন্ত্রাসবাদীদের তো বটেই, পাকিস্তানকেও যেন ধ্বংস করে দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, এনআইএ সূত্র বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই হামলাকারী জঙ্গিদের 'ব্যাকআপ' রয়েছে। সেখান থেকেই তারা এখনও সবকিছু মনিটর করছে।
এদিকে, এনআইএ সূত্র এও জানাচ্ছে, পহলগাম কাণ্ডে জড়িত জঙ্গিরা এখনও কাশ্মীরেই ঘাপটি মেরে রয়েছে। এই জঙ্গিরা অত্যন্ত সুকৌশলী ও যে কোনও রকম আত্মরক্ষার মতো স্বনির্ভর বলে জানা গিয়েছে। গত ২২ এপ্রিল পহলগামে গুলি করে বেছে বেছে হিন্দুদের নিধনের পর অনেকের সন্দেহ ছিল জঙ্গিরা সীমানা ডিঙিয়ে পালিয়ে গিয়েছে।
এনআইএ তদন্তে প্রকাশ তারা এখনও দক্ষিণ কাশ্মীরে লুকিয়ে রয়েছে এবং সক্রিয় রয়েছে। এই তদন্তের কাজে নিযুক্ত এক সূত্র জানাচ্ছে, তাদের সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে। তারা এখনও এই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে। জানা গিয়েছে, এই জঙ্গিরা পুরোপুরি আত্মনির্ভর। এদের কাছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার রয়েছে, এছাড়াও অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামও এরা নিয়ে এসেছে। সে কারণে স্থানীয়দের খাদ্য-আশ্রয় ছাড়াই তারা জঙ্গলঘেরা তরাই এলাকায় লুকিয়ে বেড়াচ্ছে।