
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 August 2024 22:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজিকর কাণ্ডে কলকাতা-সহ উত্তাল দেশ। ইতিমধ্যে ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে দোষীদের কঠোরতম শাস্তি এবং কর্মস্থলে মহিলাদের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার চিকিৎসক সংগঠনের তরফে দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছিল। এবার ছাত্রী খুনের ঘটনায় দ্রুত বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখলেন পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত দেশের ৭০ জন চিকিৎসক।
গত ৮ অগস্ট মধ্যরাতে আরজিকরে নিজের কর্মস্থলের মধ্যেই নৃশংস ঘটনার মুখোমুখি হন দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি ছাত্রী। পরের দিন চারতলার সেমিনার হল থেকে তাঁর রক্তমাখা দেহ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের পর খুন করা হয় তাঁকে। এই ধরনের নৃশংসতা রোধ করার জন্য কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মোদীকে অনুরোধ করেছেন সমাজের বিশিষ্ট এই চিকিৎসকরা।
চিঠিতে পদ্ম পুরস্কার প্রাপ্ত চিকিৎসকরা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লিখেছেন, “সম্প্রতি কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও গভীর যন্ত্রণার সাথে আপনাকে চিঠি লিখছি। আমাদের জাতির প্রধান হিসাবে, আমরা এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার অবিলম্বে এবং ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এই ধরনের বর্বরতা চিকিৎসা পেশাজীবীদের সেবার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয় এবং বিশেষ করে নারী, মেয়ে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার বিরুদ্ধে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার মোকাবিলায় জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরে।"
চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের প্রাক্তন পরিচালক, মেদান্ত দ্য মেডিসিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক রণদীপ গুলেরিয়া, মহাজন ইমেজিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা নরেশ ত্রেহান, ফোর্টিস এসকর্টস হার্ট ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান হর্ষ মহাজন, ড. অশোক শেঠ, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের প্রাক্তন মহাপরিচালক বলরাম ভার্গব এবং ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সের ডিরেক্টর এস কে সারিন।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠিতে পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, এই ক্ষেত্রে আইনের ধারাগুলিকে আরও কঠোর করা, ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা, হাসপাতাল এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা; স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সুরক্ষার জন্য একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য সম্ভাব্য কঠোরতম শাস্তির বিধি লাগু করা।
নির্যাতিত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, জানি এই ব্যথা এবং ক্ষতি অকল্পনীয়। তবে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেদিকে নজর দিতে হবে।