সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কৃষ্ণ মেনন মার্গের বাংলো খালি করলেন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের শীর্ষ আদালতের অভ্যন্তরীণ রীতিনীতি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
.jpeg.webp)
প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 1 August 2025 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির কৃষ্ণ মেনন মার্গে প্রধান বিচারপতির জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন অবশেষে ছাড়লেন ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। প্রায় আট মাস ধরে পদে না থেকেও ওই বাংলোতে বসবাস করছিলেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর এক মাস পর বাংলোটি খালি করলেন দেশের ৫০তম প্রধান বিচারপতি।
সূত্রের খবর, গত ১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের তরফে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের (MoHUA) কাছে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়, যেন দিল্লির কৃষ্ণ মেনন মার্গের ৫ নম্বর বাংলোটি, যা প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট, শীঘ্রই খালি করে সুপ্রিম কোর্টের হাউজিং পুলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায়।
নিয়ম কী বলছে?
২০২২ সালের সংশোধিত 'সুপ্রিম কোর্ট জাজেস রুলস' অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিরা সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত টাইপ VII ক্যাটাগরির বাংলো রাখতে পারেন। অথচ বিচারপতি চন্দ্রচূড় প্রায় আট মাস ধরে টাইপ VIII ক্যাটাগরির বাংলো দখল করে রেখেছিলেন, যা প্রধান বিচারপতির জন্য নির্দিষ্ট।
২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চন্দ্রচূড়। তারপরও তিনি কৃষ্ণ মেনন মার্গের বাংলো ছাড়েননি বলে হইচই পড়ে যায়।
কেন এত দেরি?
প্রাক্তন বিচারপতি অবশ্য জানান, তাঁর নতুন বাংলো, তুঘলক রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে সংস্কারের কাজ চলায় তিনি সময় চেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী, তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নাকে গত বছর ১৮ ডিসেম্বর এক চিঠিতে অনুরোধ করেন, যেন ৩০ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত কৃষ্ণ মেনন মার্গের বাংলোতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। খান্না সেই অনুরোধে সম্মতি দিলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকও ওই সময় পর্যন্ত থাকার অনুমোদন দেয়, শর্তসাপেক্ষে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার লাইসেন্স ফি দিতে হবে।
সঞ্জীব খান্না, যিনি চন্দ্রচূড়ের পরে প্রধান বিচারপতির পদে আসীন ছিলেন, নিজের ছোট মেয়াদের (ছয় মাস) জন্যও কৃষ্ণ মেনন মার্গের সরকারি বাংলোতে ওঠেননি। এমনকি বর্তমান প্রধান বিচারপতি বি আর গাওয়াইও অন্য একটি পুরনো বাংলোতেই থাকছেন।
এখন কী পরিস্থিতি?
সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কৃষ্ণ মেনন মার্গের বাংলো খালি করলেন ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের শীর্ষ আদালতের অভ্যন্তরীণ রীতিনীতি, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিয়মানুবর্তিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে যে প্রশাসনকে দেখা হয়, সেখানেই এমন ঘটনা আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে পারে বলে মত আইনজ্ঞদের একাংশের।