
চেতনা ও সেই বিভীষিকার কুয়ো
শেষ আপডেট: 26 December 2024 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৭০ ঘণ্টা কেটে গেলেও রাজস্থানে কুয়োয় পড়ে যাওয়া তিন বছরের চেতনাকে এখনও উদ্ধার করা যায়নি। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় বাহিনীর আধিকারিকরা কোনও চেষ্টাই বাকি রাখছেন না। মেয়ের চিন্তায় মা ঢোলিদেবী মুখে এক কণাও খাবার তোলেননি। তাঁর একটাই আকুতি, 'মেয়েকে বাঁচান'।
সময় যত বাড়ছে উদ্বেগ বেড়েছে চেতনার শারীরিক অবস্থা নিয়ে। তিন দিন খাবার-জল ছাড়া বেঁচে রয়েছে সে। আর কতটা সময় চলবে এই যুদ্ধ, উৎকণ্ঠায় রয়েছে সকলেই। সারা দেশজুড়ে চলছে প্রার্থনা।
চেতনাকে উদ্ধারের জন্য ব়্যাট-হোল মাইনার্সদের কাজে নামিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ব়্যাট-হোল মাইনিং এমন একটি পদ্ধতি, যা সাধারণত মেঘালয় রাজ্যে কয়লা উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সংকীর্ণ ও গভীর গর্তে আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধারের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। ২০১৪ সালে মেঘালয়ে একটি দুর্ঘটনার পর এই ব়্যাট-হোল মাইনিং নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরাখণ্ডের সিলকিয়ারা টানেলে ৪১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করতে ফের এই পদ্ধতি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়।
রাজস্থানের ৭০০ ফুট গভীর কুয়োয় পড়ে যাওয়া চেতনাকে এই পদ্ধতিতে সফলভাবে উদ্ধার করা যায় কিনা, সেদিকেই এখন চোখ সারা দেশের। বলতে গেলে, চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সময়ের সঙ্গে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। ক্যামেরার সাহায্যে তার কিছু নড়াচড়া ধরা পড়লেও, দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দেখা যাচ্ছে না। একটি অক্সিজেন পাইপ বোরওয়েলের ভিতরে নামানো হয়েছে, যাতে অক্সিজেন সরবরাহ অব্যাহত থাকে।
কুয়োটি ৭০০ ফুট হলেও, চেতনা রয়েছে ১৫ ফুট গভীরে। সেখানেই কাদা-ভেজা মাটিতে আটকে আছে সে। আর সেই ভেজা মাটির কারণেই উদ্ধারকার্যে একের পর এক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ঘটনাস্থলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সোমবার গভীর রাতে চেতনাকে বের করার জন্য বোরওয়েলে একটি রিং রড ঢোকানো হয়েছিল। কিন্তু মেয়েটির জামাকাপড়ে রড আটকে যাওয়ায়, প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারপরেও একাধিক চেষ্টা করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে পুলিশ বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স ও জেসিবি মেশিন মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার, 'হুক কৌশল' প্রয়োগ করে শিশুটিকে বার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় হরিয়ানার একটি পাইলিং যন্ত্র আনা হয়। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর অফিসার যোগেশ মীনা জানান, 'দু'টি পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে। প্ল্যান 'এ' আর প্ল্যান 'বি'। প্রথমত, জেসিবি দিয়ে ১০ ফুট গভীর একটি গর্ত খোঁড়া হবে। দ্বিতীয়ত, পাইলিং যন্ত্রের সাহায্যে ১৫০ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমেই শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধার করা যাবে বলে মনে করেন তাঁরা। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় ব়্যাট-হোল মাইনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।