মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোরের সরকারি হাসপাতালে ইঁদুরের কামড়ে (Rat Bite) মৃত্যু হয়েছে দুই নবজাতকের (Infants Death)।

রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 5 September 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ইন্দোরের সরকারি হাসপাতালে ইঁদুরের কামড়ে (Rat Bite) মৃত্যু হয়েছে দুই নবজাতকের (Infants Death)। ঘটনায় সারা রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একহাত নিয়ে বলেছেন, ‘‘এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, সরাসরি খুন।’’
শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি দুই নবজাতককে রাতের অন্ধকারে কামড়ে দেয় ইঁদুর। একজনের হাতে এবং অন্যজনের কাঁধে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। মঙ্গলবার মৃত্যু হয় প্রথম শিশুটির, যার ওজন ছিল মাত্র ১.২ কেজি। চিকিৎসকদের দাবি, জন্মগত জটিলতা ও সংক্রমণের কারণেই মৃত্যু। তার শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অত্যন্ত কম ছিল । এছাড়াও ফুসফুসের জটিলতা এবং অন্যান্য জন্মগত ত্রুটি থাকায় তাকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তবে নবজাতক বিভাগে ইঁদুর ঢুকে পড়া এবং শিশুকে কামড়ে দেওয়া যে হাসপাতালে মারাত্মক অব্যবস্থাপনার প্রমাণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বুধবার মারা যায় দ্বিতীয় নবজাতকও।
হাসপাতালের ডিন ড: অরবিন্দ ঘাংঘোরিয়া স্বীকার করেছেন নিরাপত্তা প্রোটোকল ভেঙে পড়েছে। গঠন করা হয়েছে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। ইতিমধ্যেই দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালের কর্মীরা জানান, ঘটনার কয়েক দিন আগেও ওয়ার্ডে ইঁদুর দেখা গিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়নি।
এই ব্যাপারে এক্স-এ রাহুল লিখেছেন, ‘‘এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, খুন। এমন নৃশংস, অমানবিক ও অসংবেদনশীল ঘটনার কথা শুনলেই গা শিউরে ওঠে। শুধু সরকারি অবহেলার জন্যই এক মা তার সন্তান হারালেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রশাসন বারবার তদন্তের কথা বলে দায় এড়ায়। কিন্তু যখন নবজাতকের সুরক্ষাই নিশ্চিত করতে পারেন না, তখন আপনাদের সরকার চালানোর নৈতিক অধিকার কোথায়? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, তাঁদের লজ্জায় মাথা নোয়ানো উচিত।’’
তিনি আরও দাবি করেছেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের ক্রমবর্ধমান বেসরকারিকরণের ফলে চিকিৎসা এখন শুধুই সচ্ছলদের হাতের মুঠোয়। সরকারি হাসপাতাল হয়ে উঠছে ‘‘মৃত্যুর আঁতুড়ঘর’’।
অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্য অভিযান মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধি অমূল্য নিধি জানিয়েছেন, সংগঠনের তরফে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। দাবি উঠেছে স্বাধীন তদন্তের। তাঁর অভিযোগ, নবজাতক বিভাগে পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষার চরম অবহেলার কারণেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।