অধিবেশন স্থগিত হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ভারতের অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, শেয়ারবাজারে তার প্রতিফলন ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 March 2026 19:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদের বাজেট অধিবেশনের (Budget Session 2026) দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনেই কৌশল বদলে সরকারকে চাপে ফেলতে উদ্যোগী হল বিরোধী শিবির (Opposition Parties)। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Speaker Om Birla) বিরুদ্ধে অপসারণ প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা আপাতত সরিয়ে রেখে আরব দুনিয়ার যুদ্ধ (Middle East War), তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারকে আক্রমণের পথ বেছে নিল তারা।
সোমবার অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী সাংসদরা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান। তাদের অভিযোগ, আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে, বহু ভারতীয় এখনও সেখানেই আটকে রয়েছেন, অথচ সরকার যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা দাবি করেন তারা। সেই সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সংসদে পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন।
বিরোধীদের দাবিতে লোকসভায় বারবার হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং অধিবেশন একাধিকবার স্থগিত করতে হয়। সরকার যদিও আলোচনার প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হয়নি। পরে রাজ্যসভায় বিদেশমন্ত্রী পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেও লোকসভায় অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত বিকেল তিনটেয় দিনের মতো অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।
অধিবেশন স্থগিত হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ভারতের অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, শেয়ারবাজারে তার প্রতিফলন ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে। তাই এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি বলে তিনি দাবি করেন।
রাহুলের কথায়, তেলের দাম বৃদ্ধি কিংবা অর্থনীতির ভবিষ্যৎ—এসবই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্পিকার সংক্রান্ত বিষয় পরে আলোচনা করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
সরকারের তরফে এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি রাহুল গান্ধীকে 'ব্যর্থ বিরোধী নেতা' বলে কটাক্ষ করেন। অন্যদিকে প্রাক্তন মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর অভিযোগ করেন, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে এখন বিরোধীরাই বিতর্ক এড়িয়ে যাচ্ছেন।
সূত্রের খবর, সোমবার সকালে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই কৌশলগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী নেতা অখিলেশ যাদবসহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসও বিরোধীদের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এর প্রভাব ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, দেশের জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে পশ্চিম এশিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবু এখনও বহু মানুষ ওই অঞ্চলে রয়ে গেছেন। বিরোধীদের দাবি, এই মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়েই সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়া উচিত।