ওড়িশার কান্ধামাল জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে খতম হল কুখ্যাত মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে। তার মাথার দাম ছিল ১.১ কোটি টাকা, ঘটনাকে বড় সাফল্য বলছে প্রশাসন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 December 2025 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার (Odisha) জঙ্গলে একের পর এক এনকাউন্টার। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে খতম অন্তত ছ’জন মাওবাদী (Naxalite)। তাদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে (Ganesh Uike)। বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কান্ধামাল (Kandhamal) জেলার দুই আলাদা এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল, এই দু’টি সময়েই ওড়িশার জঙ্গলে চলে বড়সড় অভিযান। প্রথম এনকাউন্টারটি হয় বুধবার রাতে গুম্মা (Gumma) জঙ্গলে। এই এলাকা বেলঘর (Belghar) থানার আওতায় পড়ে। সেই সংঘর্ষে দু’জন মাওবাদী খতম হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় এনকাউন্টারটি হয় চাকাপাড (Chakapad) থানার অন্তর্গত জঙ্গলে। সেখানে আরও চার মাওবাদীকে নিকেশ করে নিরাপত্তাবাহিনী। এই চারজনের মধ্যেই ছিলেন কুখ্যাত মাওবাদী নেতা গণেশ উইকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৬৯ বছর বয়সি গণেশ উইকে সিপিআই (মাওবাদী)-র (CPI Maoist) কেন্দ্রীয় কমিটির (Central Committee) সদস্য ছিলেন। তাঁর মাথার দাম ছিল ১.১ কোটি টাকা। ওড়িশা ও আশপাশের রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। উইকে বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন- পাক্কা হনুমন্তু (Pakka Hanumantu), রাজেশ তিওয়ারি (Rajesh Tiwari), চামরু (Chamru) ও রূপা (Rupa)। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি তেলঙ্গানার (Telangana) নালগোন্ডা (Nalgonda) জেলার পুল্লেমালা (Pullemala) গ্রামের বাসিন্দা।
এনকাউন্টারস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। এর মধ্যে রয়েছে দু’টি ইনসাস রাইফেল (INSAS rifle) এবং একটি .৩০৩ রাইফেল (.303 rifle)। যদিও বাকি মাওবাদীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই অভিযানকে রাজ্যের জন্য বড় সাফল্য বলে দাবি করেছেন ওড়িশার ডিজিপি (DGP) যোগেশ বাহাদুর খুরানিয়া (Yogesh Bahadur Khurania)। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, 'বুধবার দু’জন এবং বৃহস্পতিবার সকালে চারজন মাওবাদী খতম হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্যের মৃত্যু মাওবাদীদের জন্য বিরাট ধাক্কা। এতে ওড়িশায় তাদের সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে গেল।' তাঁর কথায়, কান্ধামাল-গঞ্জাম (Kandhamal-Ganjam) আন্তঃজেলা সীমান্ত এলাকায় এখনও অভিযান চলছে এবং আরও সাফল্যের আশা রয়েছে। সাম্প্রতিক কালে ওড়িশায় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এটি অন্যতম বৃহৎ অভিযান বলেও দাবি করেন তিনি।
ডিজিপি আরও জানান, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তা পূরণে নিরাপত্তাবাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এই অভিযানের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজেও নিরাপত্তাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন। এক্স-এ লেখেন, এই সাফল্য নকশালবাদ নির্মূলের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। তাঁর দাবি, এই অগ্রগতির ফলে ওড়িশা কার্যত নকশালমুক্ত হওয়ার দোরগোড়ায়। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে নকশালবাদ পুরোপুরি নির্মূল করাই লক্ষ্য বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ওড়িশার জঙ্গলে এই অভিযানের পর নকশাল দমনে বড় সাফল্যের দাবি করছে প্রশাসন।