উত্তরপ্রদেশের এক মহিলার পেটে ব্যথা আর বমির আসল কারণ খুঁজতে গিয়ে সামনে এল অজানা তথ্য—ভ্রূণ গড়ে উঠছে যকৃতের মধ্যে! চিকিৎসকদের দাবি, ভারতে এমন ঘটনা এই প্রথম।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 14:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তলপেটের ব্যথা আর বমি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছিল না। একটার পর একটা ওষুধ বদল, ডাক্তার বদল, তবু মেলেনি সুরাহা। শেষমেশ এমআরআই করাতে গিয়েই সামনে এল এক রীতিমতো অবিশ্বাস্য চিত্র। উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের ৩০ বছরের এক মহিলার গর্ভাবস্থা ধরা পড়ল, কিন্তু সেটা গর্ভাশয়ে নয়, বরং যকৃতে! দেশের চিকিৎসকরা বলছেন, ভারতে এমন ঘটনা এই প্রথম।
এই বিরল গর্ভাবস্থার খোঁজ পান বুলন্দশহরের রেডিয়োলজিস্ট ডাঃ কে কে গুপ্ত। তিনি জানান, মহিলার যকৃতের ডান দিকের অংশে একটি ১২ সপ্তাহের ভ্রূণ রয়েছে। স্ক্যান করার সময় ভ্রূণের হৃদস্পন্দনও অনুভব করেন তিনি।
মহিলাটি দু’সন্তানের মা। স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। প্রায় দুই মাস ধরে পেটব্যথা ও বমির সমস্যা ছিল তাঁর। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও সুরাহা হয়নি। অবশেষে এক বেসরকারি ইমেজিং সেন্টারে এমআরআই করাতে গিয়েই সামনে আসে আসল কারণ।
ডাঃ গুপ্ত জানান, ২২ জুলাই এমআরআই রিপোর্ট পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। বলেছেন, “এটা একেবারেই বিরল ঘটনা। পৃথিবী জুড়ে মাত্র ১৮টা এমন ঘটনা নথিভুক্ত রয়েছে। ভারতে এটাই প্রথম।”
তিনি আরও জানান, যকৃতে গর্ভাবস্থা খুব বেশি দিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ১৪ সপ্তাহের মধ্যে অস্ত্রোপচার করে ভ্রূণ সরিয়ে ফেলা দরকার, না হলে মায়ের মৃত্যু হতে পারে।
বর্তমানে ওই মহিলাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লির এইমসে (AIIMS) পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের গর্ভাবস্থা ‘একস্ট্রা ইউটেরাইন হেপাটিক প্রেগনেন্সি’-র মধ্যে পড়ে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে চূড়ান্ত দুর্লভ ঘটনা।