আদালত এও স্পষ্ট জানায় যে, তাদের ভূমিকা কেবল আইনের সীমায় আবদ্ধ। নৈতিকতার প্রশ্নে মন্তব্য করার দায়িত্ব আদালতের নয়। যেহেতু ‘এক্স’ প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনি বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে অস্বীকার করেছেন, তাই তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 25 August 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক প্রাপ্তবয়স্ক নারীর (Adult Woman) নিজের ইচ্ছেমতো জীবনযাপন করার স্বাধীনতাই তার মৌলিক অধিকার - এমনটাই স্পষ্ট করে দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (Madhya Pradesh HC)। আদালত পরিষ্কার করে জানিয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে চাইলে এমন ব্যক্তির সঙ্গেও থাকতে পারেন, যিনি বিবাহিত (Married Man)।
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি প্রদীপ মিত্তলের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “যে নারী নিজের বুদ্ধি-বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, তাকে জোর করে বাবা-মায়ের কাছে ফেরত পাঠানো যায় না। বয়স যদি আঠারোর বেশি হয়, তবে তিনি যাকে বেছে নেবেন, তার সঙ্গেই থাকতে পারবেন।”
এই মামলার কেন্দ্রে ছিলেন এক তরুণী, যাকে কোর্ট নথিতে কেবল ‘এক্স’ (X) নামে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের মাধ্যমে তাঁকে আদালতের সামনে হাজির করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালত জানতে পারে, ‘এক্স’ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের সঙ্গীর সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং আদালতকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ওই ব্যক্তির সঙ্গেই থাকতে চান।
তবে পিটিশনারের তরফে আইনজীবী অয়ূষ শর্মা যুক্তি দেন, যে ব্যক্তির সঙ্গে তরুণী থাকতে চাইছেন তিনি বিবাহিত, তাই তাঁকে ফেরত পাঠানো উচিত তাঁর বাবা-মায়ের কাছে। আদালত এই যুক্তি খারিজ করে জানায়, এই মামলায় একমাত্র সত্য হল- তরুণীর বয়স। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক। সুতরাং তাঁকে “শিশুর মতো টেনে নিয়ে যাওয়া যায় না।”
রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানান হয়েছে, পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে ওই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে দিয়েছেন এবং আইনি বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত মন্তব্য করে, “শুধুমাত্র ওই ব্যক্তি বিবাহিত বলে ‘এক্স’-এর সঙ্গে থাকা আটকানো সম্ভব নয়।”
আদালত এও স্পষ্ট জানায় যে, তাদের ভূমিকা কেবল আইনের সীমায় আবদ্ধ। নৈতিকতার প্রশ্নে মন্তব্য করার দায়িত্ব আদালতের নয়। যেহেতু ‘এক্স’ প্রাপ্তবয়স্ক এবং তিনি বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে অস্বীকার করেছেন, তাই তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
তবে তার আগে দুই শর্তে নির্দেশ জারি করা হয়— প্রথমত, তরুণীকে লিখিত অঙ্গীকার করতে হবে যে তিনি স্বেচ্ছায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকছেন। দ্বিতীয়ত, সেই ব্যক্তিকে লিখিতভাবে স্বীকার করতে হবে যে তিনিও তরুণীর সঙ্গে থাকতে চান। এরপরই পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে মুক্তি দেওয়ার।
যদিও আদালত এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে - কেবলমাত্র ওই ব্যক্তির প্রথম স্ত্রীই স্বামীর বিরুদ্ধে বা মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তারপর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত হবে।