রাজ্যের (State Govt) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Tirthankar Ghosh)। শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি (Hearing) হবে বলে জানিয়েছে আদালত।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 25 August 2025 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেকে (Salt Lake) আইনজীবীর উপর হামলার (Attack On Advocate) ঘটনায় রাজ্যের (State Govt) কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata High Court) বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Tirthankar Ghosh)। শুক্রবার ফের এই মামলার শুনানি (Hearing) হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী আদালতে জানান, “আমার মক্কেলের উপর হামলা করা হয়েছে। যে সময়ে ঘটনা ঘটে, আইনজীবীর ছেলে বাবাকে ফোন করে ডাকে। তখন তিনি চেম্বারে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।”
এরপর বিচারপতি মামলাকারীদের উদ্দেশে জানতে চান, এই মুহূর্তে তাঁদের দাবি কী! জবাবে আইনজীবীদের তরফে আবেদন জানানো হয়—
বিধাননগর থানার (Bidhannagar Police) পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। ওই দিন তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে একটি রিপোর্টও পেশ করা হয়েছে। বিধাননগর ডিডি তদন্ত করছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে চার্জও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, আইনের নিয়ম মেনেই তদন্ত এগোচ্ছে।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তোলেন— “যদি বিধাননগর ডিডি তদন্ত করছেই, তাহলে থানার পক্ষ থেকে রিপোর্ট কেন জমা দেওয়া হচ্ছে?” আদালতের নির্দেশ, বিধাননগর গোয়েন্দা শাখার পক্ষ থেকে নতুন একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়, তদন্তকারী আধিকারিক কাজি রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে আলাদা একটি রিপোর্ট জমা দেবেন।
শেষ পর্যন্ত বিচারপতি নির্দেশ দেন, সল্টলেকের আইনজীবীর ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত চলবে বিধাননগর গোয়েন্দা শাখা এবং ডিসিপির নজরদারিতে। আগামী শুক্রবার এই মামলার পুনরায় শুনানি হবে।
বস্তুত, সরকারি আইনজীবীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে! এমন মারা হয় যে কোমর ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় সরকারি আইনজীবীকে। আইনজীবীর ছেলে এবং আরেক আত্মীয়কেও পুলিশ পেটায় বলে অভিযোগ ওঠে।
আক্রান্ত মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের সরকারি আইনজীবী। তাঁর বাবা প্রয়াত রণেন্দ্রনারায়ণ রায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। বুধবার রাতে সল্টলেকের একে ব্লকে সরকারি আইনজীবীর বাড়ির কাছেই তাঁদের গাড়ি রাখা ছিল।
অভিযোগ, গাড়ি আনতে যাওয়ার সময় মনুজেন্দ্রনারায়ণ রায়ের ছেলেকে ধরে তাঁর পরিচয় জানতে চান সাদা পোশাকে থাকা দুই পুলিশ কর্মী। সরকারি আইনজীবীর ছেলে প্রশ্ন করায়, পুলিশ কর্মীরা তাঁকে মারধর করে গলা টিপে ধরেন। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একজন অ্যাসিস্ট্য়ান্ট সাব ইন্সপেক্টর তাঁকে চড়ও মারেন বলে অভিযোগ।
আক্রান্ত সরকারি আইনজীবীর ছেলে সৌরীন্দ্রনারায়ণ রায় বলেন, "সিভিল ইউনিফর্মে ২ জন লোক অভদ্রভাবে কথা বলে। জিজ্ঞেস করে, আমার বাড়িটা কোথায়। আমি বলেছি, এই পাড়ায় থাকি। জিজ্ঞেস করলাম ওঁকে, কাকু আসলে হয়েছেটা কী? ওঁর কোনও কারণে মাথা গরম হয়। উনি আমাকে মারেন। যখন আমি প্রত্য়াঘাত করেছি, নিজেকে বাঁচানোর জন্য়, আমাকে উনি বলেন, পুলিশের গায়ে হাত তুলেছ, তোমার পুরো ভবিষ্য়ৎ নষ্ট করে ছাড়ব। আমায় আরও হুমকি দিয়েছে। ওরা প্রথমে ২ জন ছিল। পরে আরও ২ জন এসেছে।"